দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক মাস ধরে রাফায়েল বিতর্কে শিল্পপতি অনিল অম্বানিকে দোষারোপ করে আসছে কংগ্রেস। কিন্তু ভোটের সময় সেই কংগ্রেসকেই ঢালাও সমর্থন করলেন তাঁর দাদা মুকেশ অম্বানি। এবার মুম্বই সাউথ কেন্দ্র থেকে লড়ছেন কংগ্রেসের মিলিন্দ দেওরা। ৪২ বছরের মিলিন্দ একটি ভিডিও টুইট করেছেন। তাতে শোনা যাচ্ছে, মুকেশ ঢালাও প্রশংসা করছেন কংগ্রেস প্রার্থীর।
মুকেশকে বলতে শোনা যাচ্ছে, মিলিন্দই দক্ষিণ মুম্বইয়ের যোগ্যতম প্রার্থী। এই কেন্দ্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান আছে। মিলিন্দ নিজে টুইট করে বলেছেন, ছোট দোকানদার থেকে বড় শিল্পপতি, দক্ষিণ মুম্বইয়ের সকলেই চায় ব্যবসা। আমরা মুম্বইতে ফের ব্যবসা ফিরিয়ে আনব। যুবকদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মুকেশ অম্বানি দেশের ধনীতম ব্যক্তি। তাঁর মতো শিল্পপতি কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করছেন, এমনটা সচরাচর ঘটে না। মিলিন্দ বলেন, আমি জানি, মুকেশ অম্বানি বা উদয় কোটাকের মতো শিল্পপতি সমর্থন করলে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। তাঁরা যে আমাকে সমর্থন করেছেন, সেজন্য আমি গর্বিত। কিন্তু যখন এলাকার পানওয়ালা বা অন্যান্য ছোট ব্যবসায়ী আমাকে সমর্থন করেন, তখনও আমি সমানভাবে গর্বিত হই। তাঁরাও বলেন, মিলিন্দ দেওরা দক্ষিণ মুম্বইয়ের জন্য ‘রাইট পার্সন’।
https://twitter.com/milinddeora/status/1118581093140135936
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী গত কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই শিল্পপতি অনিল অম্বানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বন্ধু হওয়ার জন্যই অনিলের কোম্পানি রাফায়েল নির্মাতা দাসো কোম্পানির অফসেট পার্টনার হয়েছে। ইউপিএ আমলে রাফায়েল বিমানের যে দাম ধার্য হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি দামে কিনছে এনডিএ। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল অনিলকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া। সেজন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন হল, যে দল নিয়মিত তাঁর ভাইকে আক্রমণ করছে, মুকেশ তাদের পাশে দাঁড়ালেন কেন?
দুই ভাইয়ের মধ্যে ইদানীং কোনও বিরোধ হয়েছে বলেও জানা যায়নি। বরং উলটো। কয়েক মাস আগে এরিকসন কোম্পানি যখন অনিলকে ধার শোধ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল, তখন মুকেশ ৪৫৮.৭৭ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেন। না হলে হয়তো অনিলকে সেবার জেলে যেতে হত।
দাদা যে তাঁকে বিপদে রক্ষা করেছেন, সেকথা প্রকাশ্যে এক চিঠিতে জানিয়েছিলেন অনিল। চিঠিতে তিনি লেখেন, আমি দাদা মুকেশ ও বৌদি নীতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁরা গভীর পারিবারিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন।
একসময় অবশ্য মুকেশ ও অনিলের মধ্যে বিরোধ ছিল। পরে তাঁদের মায়ের মধ্যস্থতায় বিরোধ মিটে যায়।