দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ, স্বাধীনতার ৭৪ বছর পর আসছে পানীয় জল
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: দীর্ঘদিনের দাবী মিটতে চলেছে শেষমেশ। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের জন্য আসতে চলেছে পানীয় জল। সমস্ত প্রকল্পটিতে খরচ হবে প্রায় দশ কোটি টাকা। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের শালকুমার ১, শালকুমার ২
শেষ আপডেট: 31 August 2020 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: দীর্ঘদিনের দাবী মিটতে চলেছে শেষমেশ। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের জন্য আসতে চলেছে পানীয় জল। সমস্ত প্রকল্পটিতে খরচ হবে প্রায় দশ কোটি টাকা। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের শালকুমার ১, শালকুমার ২, পাতলাখাওয়া ও মথুরা গ্রাম পঞ্চায়েতে পানীয় জল প্রকল্পে কাজ করছেন জেলা জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর। মনে করা হচ্ছে এর ফলে প্রায় দশ লক্ষের মতো মানুষ উপকৃত হবেন।
জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী এই সব মানুষেরা স্বাধীনতার আগে থেকেই পরিশুদ্ধ পানীয় জলের অধিকার থেকে বঞ্চিত। সরকার এসেছে, সরকার গেছে। কিন্তু স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছর পরেও পানীয় জলের সমস্যার সমাধান করে উঠতে পারেননি কেউ। এতদিন পর এই প্রথম আলোর দিশা দেখছেন গ্রামবাসীরা।প্রায় দশ কোটি টাকার এই জল প্রকল্প নিয়ে আশায় আশায় বুক বাঁধছেন এলাকার মানুষ।
সোমবার জেলার জনস্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে সহ স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন তার সঙ্গে। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, "এই পানীয় জল প্রকল্পে দশ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। আমাদের বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের এক বছরের সব টাকা এই প্রকল্পে দেওয়া হবে। ঘোষিত চারটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা ছাড়াও পাটকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলে আরও একটি পানীয় জল প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। ওই প্রকল্পের কাজও খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে।"

জানা গিয়েছে দশ কোটি টাকার এই পানীয় জল প্রকল্পে মোট চারটে রিজার্ভার বা জলাধার তৈরি করা হবে। জলাধারে সংরক্ষিত পানীয় জল চার গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্বত্র পাইপ লাইনের মাধ্যমে রাস্তার পাশের টিউবওয়েলে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের সাহায্যে বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও আছে। নতুন চারটি রিজার্ভারের মধ্যে একটি হবে মথুরা চা-বাগান এলাকায়। এই রিজার্ভারের জন্য জমি দান করেছেন মথুরা চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। অন্য তিনটি রিজার্ভারের জন্যও তিনজন গ্রামবাসী জমি দান করেছেন।
আলিপুরদুয়ার জেলা জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দফতরের আধিকারিক সুব্রত ধর বলেন, " এই পানীয় জল প্রকল্পে দশ কোটি টাকা খরচ হবে। সোমবার চারটে রিজার্ভারের জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করা হয়েছে। গোটা প্রকল্পের সব দিক খুঁটিয়ে দেখার কাজ চলছে। খুব তাড়াতাড়িই কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে পানীয় জল পৌঁছে দেবে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দফতর।"