দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার বিক্রির মামলায় রাজ্যের অর্থ সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী-সহ চার জন আমলার বক্তব্য জানতে তাঁদের নোটিস ধরাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। অর্থ সচিব ছাড়াও ওই চার আমলা হলেন, রাজেশ সিংহ, রাজীব কুমার এবং ভগবতীপ্রসাদ গোপালিকা। এই তিন আমলা গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের সচিব ছিলেন।
অনেকের মতে, একুশের ভোটের আগে এই তদন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চিটফাণ্ড মামলা নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় এবার নতুন জানালা খুলল। যদিও এই নোটিস সম্পর্কে ওই চার জন আমলা বা সরকারের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
মেট্রো ডেয়ারি শেয়ার বিক্রি মামলায় মূল অভিযোগ কী?
এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে মূল মামলা দায়ের করেছেন লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। সেই মামলায় পক্ষ করা হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে। মেট্রো ডেয়ারির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে রাজ্য দুগ্ধ ফেডারেশন পরিচালনা করত প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর। মেট্রোতে কেভেন্টার্সের শেয়ার ছিল ৫৩ শতাংশ। রাজ্য দুগ্ধ ফেডারেশন তথা সরকারের হাতে ছিল ৪৭ শতাংশ। অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, “সরকারের সেই ৪৭ শতাংশ শেয়ার জলের দামে বেচে দিয়েছিল নবান্ন। মাত্র ৮৫ কোটি টাকা পেয়েছিল সরকার।
কিন্তু টুইস্ট রয়েছে তার পরই। তার কিছুদিনের মধ্যেই কেভেন্টার্স মেট্রোর ১৫ শতাংশ শেয়ার সিঙ্গাপুরের একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডকে ১৭০ কোটি টাকায় বেচে দেয়। সেটাই যদি ভিত্তি ধরা যায়, তা হলে দেখা যাবে ৪৭ শতাংশ শেয়ার বেচে সরকারের ৫৩২ কোটি টাকা পাওয়া উচিত ছিল। সোজা হিসাবেই সরকারের প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।”
যে হেতু মামলায় ইডি-কে পক্ষ করা হয়েছিল, সেই সূত্রে তারা তদন্ত শুরু করে। কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সির জানিয়েছিল, সিঙ্গাপুরের প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড এই শেয়ার কিনেছিল, তাই ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট তথা ফেমা-র আওতায় তদন্ত হবে।
রাজ্য সরকার তথা প্রাণীসম্পদ দফতর বারবারই দাবি করেছে যে, নিয়মকানুন মেনেই মেট্রো ডেয়ারিতে সরকারি শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে গোটা প্রক্রিয়ায়। দুবার দরপত্র ডেকে কেভেন্টার্সকেই একমাত্র ক্রেতা হিসাবে পাওয়া গিয়েছিল। তারা কাকে কত টাকায় শেয়ার বিক্রি করেছে তার দায় সরকারের নয়।
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ
অধীরবাবু রবিবার বলেন, “গোটা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে। মেট্রো ডেয়ারিতে সরকারি শেয়ার বিক্রি করা হবে—সে ক্ষেত্রে দরপত্র ডেকে তার যথাযথ প্রচার করা হবে সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু টেন্ডার নোটিস এমন জায়গায় ছাপা হয় যে কারও ক্ষমতা নেই তা খুঁজে পাওয়া। তা হলে কি কেউ যাতে খুঁজে না পায় সেটাই উদ্দেশ্য ছিল? দুই, সিঙ্গল টেন্ডারে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল। আমরা সবাই জানি, সিঙ্গল টেন্ডারে সরকারি সম্পদ বিক্রি মানেই দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহ হবে। তিন, রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু এই চার আমলার সিদ্ধান্ত এটা নয়। মূল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এবং সরকারের মুখিয়া হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ, মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনিই পৌরোহিত্য করেন।”
লোকসভায় কংগ্রেস নেতার কথায়, “আমলারা হয়তো নির্দেশ পালন করেছেন। কিন্তু পিছন থেকে কে কলকাঠি নেড়েছেন তা তো তদন্ত করতেই হবে”। তিনি এও বলেন, “সিঙ্গাপুরের ওই প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড কারা পরিচালনা করেন তাও তদন্ত করে দেখা উচিত।”