দিব্যেন্দু ভৌমিক, কোচবিহার: মদনমোহনের রথ এবার গড়াল তবে সেই রথ ভক্তরা টানলেন না। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবার মোটরচালিত রথের সওয়ার হলেন কোচবিহারের রাজপরিবারের কুলদেবতা মদনমোহন তবে নিয়মরক্ষা করতে রশি স্পর্শ করেন রাজপ্রতিনিধি।
মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের রাজত্বকালে ১৮৯১ সাল থেকে চলে আসছে এই রথযাত্রা। আগে রাজা স্বয়ং দড়ি ধরে রথযাত্রার সূচনা করতেন। এখন তা করেন কোনও রাজপ্রতিনিধি। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় সেই রথযাত্রার সূচনা হবে। এবার সূচনা করেন রাজপ্রতিনিধি অমূল্যকুমার দুয়ারবকশী। রথের রশি অবশ্য পুরোপুরি প্রতীকি। তিনি রশিতে টান দেওয়ার পরে মোটরচালিত রথ যায় ২ কিলোমিটার দূরে মাসির বাড়ি ডাঙ্গরাই মন্দিরে। এই মন্দিরও প্রতিষ্ঠা হয় ১৮২১ সালে।
গুঞ্জবাড়ির ডাঙ্গরাই মন্দিরে কয়েক দিন ধরেই ছিল সাজ সাজ রব। এখানে আলাদা একটি ঘরে মদনমোহনের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। সেই ঘর সারাবছর ফাঁকাই পড়ে থাকে। সেই প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সারা হয়ে যায় দুপুরেই। প্রতি বছর ডাঙ্গরাই মন্দির ঘিরে সাত দিন ধরে চলে রথের মেলা। এবার তা হচ্ছে না করোনা মহামারীর জন্য। ডাঙ্গরাই মন্দিরটিও কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালিত। পদাধিকারবলে এই ট্রাস্টের প্রধান হলেন কোচবিহারের জেলাশাসক।
রথ এক দিনের উৎসব হলেও তার প্রস্তুতি অনেক দিনের। জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমায় ১০৮ কলসের জলে স্নান করানো হয় মদনমোহনদেবকে। রথযাত্রার আগের রাতে সন্ধ্যারতির পরে হয় অধিবাস। রথের দিন সকালে স্নান পর্বের পরে মদনমোহন ঠাকুর বাড়ির কাঠামিয়া মন্দিরে বিশেষ পুজো হয়। এখানে রাজপুরোহিতের পাশাপাশি পুজো করেন জেলাশাসকও। বর্তমান রাজপুরোহিতের নাম হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। বিশেষ পুজোর পরে পাঁচ রকম ভাজা ও পরমান্ন সমেত ভোগ দেওয়া হয়। বিকেলে রথ টানা হয়।
এখানে রথের আর এক বৈশিষ্ট্য হল লটকা ফল। স্থানীয় বাসিন্দারা রথের দিনই প্রথম এই ফল খান। তার আগে বাতাসা ও কলার সঙ্গে রথে থাকা দেবতার উদ্দেশে লটকা ফল ছুড়ে দেন। মঙ্গলবার বিভিন্ন দোকানে এই ফল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এবারে রথযাত্রায় কাউকে বাড়ি থেকে না বেরতে অনুরোধ করেছে প্রশাসন। জমায়েত করতে নিষেধ করা হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস মহামারীর আকার ধারণ করার ফলেই প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার থেকে এব্যাপারে মাইকে করে প্রচার করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবারও এনিয়ে মাইকিং করা হয়েছে।
মন্দিরের অছি পরিষদ সূত্রে জানা গেছে এবারের রথযাত্রা সূচনা অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলাশাসক পবন কাদিয়ান, কোচবিহারের জেলা দায়রা ও সেশন জজ সুকুমার রায় এবং জেলা পুলিশসুপার সন্তোষ নিম্বালকার।