
শেষ আপডেট: 4 September 2023 05:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল ভর্তি ছাত্রছাত্রী, তবে তাদের মধ্যে একজন একটু আলাদা। ইয়া লম্বা ল্যাজ ঝুলিয়ে সে এসে বসে ক্লাসরুমে, মন দিয়ে পড়া শোনে, টিফিনে খেলে বন্ধুদের সঙ্গে, খাবার খায় ভাগ করে (monkey plays with students)। তবে আনন্দের আতিশয্যে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের আঁচড়েও দেয় সে। দাসপুরের সাগরপুর স্যার আশুতোষ হাইস্কুলের কর্তৃপক্ষ আপাতত তাঁদের এই না-মানুষ ছাত্রটিকে নিয়ে বেজায় বিড়ম্বনায়।
ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্বও পাতিয়ে ফেলেছে সে। প্রথমদিকে সব ঠিকঠাকই ছিল। তবে পবন পুত্রের মতিগতি বোঝা দায়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে ইতিমধ্যেই সে আঁচড়ে দিয়েছে কয়েকজন পড়ুয়াকে। কখনও তাদের খাবার নিয়ে দুষ্টুমি করে পালিয়ে যাচ্ছে সে। আর হনুমানের এহেন দুষ্টুমিতে ছাত্রছাত্রীরা মজা পেলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তাঁদের অভিভাবকরা।

সেই কারণেই এবার বনদফতরকে খবর দেওয়া হয়েছে আশুতোষ হাইস্কুলের তরফে। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মানস কুমার মান্না জানান, 'প্রথমে সব ঠিকই ছিল, তবে মাঝে মাঝে বাঁদরামি বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। বিপদে পড়ছে পড়ুয়ারা।' তিনি জানান, হনুমানটি ইদানিং দাঁত মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের দিকে। ফলে ভয় পাচ্ছে পড়ুয়ারাও।
এ প্রসঙ্গে বনদফতর কর্মী অসিত বরণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ঘটনাটি জানা ছিল না, অবিলম্বে হনুমানটি ধরার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর মতে, হনুমান যেখানে খাবারদাবার পায় সেখানেই থেকে যায়। ওই স্কুল থেকে নিয়মিত খাবার পাওয়ার ফলেই সেখানে থেকে গেছে হনুমানটি।
গরমের ছুটির পরই স্কুল খোলার পর দেখা যায় স্কুলেই আস্তানা গেড়েছে সেই হনুমান। টিফিনে কখনও বল নিয়ে এসে পড়ুয়াদের হাতে দেয় সে। আবার কখনও দুষ্টুমি করে বল নিয়ে পালিয়েও যায়। মনমেজাজ ভাল থাকলে বন্ধুদের কাঁধে চেপে স্কুলের মাঠে ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে তাকে। তবে সুখের দিন এবার হয়তো শেষ হতে চলেছে তার। খুব তাড়াতাড়িই বন দফতরের তত্ত্বাবধানে তাকে হয়তো মানুষ বন্ধুদের ছেড়ে আবার ফিরে যেতে হবে স্বজাতির বন্ধুদের কাছে।