শঙ্খদীপ দাস
"পাট থেকে খুব সস্তায় যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানো যায়, জানেন?"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বুধবার তৃণমূলের যে সাংসদরা দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও অনেকের জানা ছিল না। বরং মোদী যে এই খবরও রাখেন, এ ব্যাপারেও তাঁর ভাবনা রয়েছে, তা শুনে অনেকেই থ!
অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্পোরেটাইজেশন ও বেঙ্গল কেমিক্যালের বিলগ্নিকরণের প্রস্তাবে আপত্তি জানাতে বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁদের তো কোনও আশ্বাসবাণী শোনানইনি, উল্টে সরকারের সিদ্ধান্তের সপক্ষে এমন যুক্তি দিয়ে কথা বলেছেন, যে তা খণ্ডন করতেও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তৃণমূলের সাংসদদের একাংশ।
সূত্রের বৈঠক চলাকালীন এক সময় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল সাংসদদের বলেন, "এই যে বাংলার পাটশিল্প ধুঁকছে, আপনারাই বলুন এর আধুনিকীকরণ জরুরি কি না! পাট দিয়ে এখন পরীক্ষামূলক ভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানো হচ্ছে। খরচ হচ্ছে খুব কম। ১ টাকায় এক একটি দেওয়া যাবে। গ্রামের মহিলাদের কাছে সস্তায় এই স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করতে পারলে, কত ভাল হবে বলুন তো!"
ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এমনিতেই গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ঋতু-রক্ত সামাল দিতে এখনও বহু কিশোরী বা তরুণী কাপড়, কাগজ ইত্যাদি ব্যাবহার করে থাকেন। আবার অনেকে সচেতন হলেও, বাজার চলতি স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার সঙ্গতি নেই তাঁদের। প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়টির দিকেই ইঙ্গিত করতে চান। জানা গিয়েছে, পাট দিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন পরীক্ষামূলক ভাবে চালানোর প্রস্তাবে জুট বোর্ড ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে।
অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্পোরেটাইজেশনের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ ফের উত্থাপন করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুখেন্দু শেখর রায়, সৌগত রায়রা। সেই সঙ্গে বেঙ্গল কেমিক্যালের ঐতিহ্যের কথাও বলেন।
সূত্রের খবর, জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নিয়ে এ ধরনের আবেগ থাকা অমূলক নয়। কিন্তু সরকারের পক্ষেও সমস্যা হচ্ছে। দিনের পর দিন এক একটা সংস্থা লোকসানে চলছে। কিছু আমলা তার সুযোগ নিচ্ছেন। আর সেখানকার কর্মচারীরা পান খেয়ে আড্ডা দিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন, মাস গেলে মাইনে পাচ্ছেন। সরকার এই ধরনের কিছু সংস্থাকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে চালানোর কথা ভাবছে। এর মানে বেসরকারিকরণ নয়। কিন্তু সরকারি আমলার পরিবর্তে পেশাদার নিয়োগ করা হবে সংস্থা পরিচালনার জন্য। তাঁদের মুনাফা করার টার্গেট থাকবে। প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা কায়েম করা হবে।
তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি হয়। দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত কারণেই এর কর্পোরেটাইজেশন করা ঠিক হবে না। তা ছাড়া কর্পোরেটাইজেশনের হাত ধরেই এক দিন বেসরকারিকরণ যে হবে, তা নিয়েও সংশয় নেই।
প্রসঙ্গত, বেঙ্গল কেমিক্যালের বিলগ্নিকরণের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সংস্থা এক সময় অতিশয় রুগ্ণ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু গত কয়েকটি আর্থিক বছর ধরে সামান্য হলেও মুনাফা করছে। তবে বেঙ্গল কেমিক্যালের বিলগ্নিকরণ থেকে পিছু হটার মতো কোনও আশ্বাস এ দিনও দেননি প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/sanitary-napkins-from-jute-invented-in-west-bengal/