
শেষ আপডেট: 2 March 2024 07:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসানসোলের পর শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এদিনের সরকারি কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ, নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেলসেতুর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মোদীর।
ভোটের মুখে এই রেলসেতুর কৃতিত্ব নিয়েই দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেসের দাবি, এই সেতু নির্মাণ নিয়ে তৈরি জমি জট কাটাতে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়েছেন অধীর চৌধুরী। সেকারণেই আজ সেতু বাস্তবায়িত হতে চলেছে। সিপিএমের বক্তব্য, এই সেতু নিমার্ণের জন্য লোকসভায় সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন তাঁরাই। আর বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী উদ্যোগী না হলে এই প্রকল্প বাস্তবের মুখ দেখত না। স্বভাবতই, সেতুর কৃতিত্ব নিয়ে ভোটের মুখে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেলসেতুর আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব। সেতু নির্মাণে ৪৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল রেলমন্ত্রক। ২০১০ সালে সেতু চালু হওয়ারও কথা থাকলেও জমি জটে কাজ থমকে যায়। পরে এব্যাপারে তৎপর হন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী।
পরে ভাগীরথী নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হলেও সেতুর পূর্বদিকের অ্যাপ্রোচ রোড নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। অধীরের দাবি, তাঁর এবং রেলের মধ্যস্থতায় ওই জট কেটে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজ শুরু হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হলেও রেল সুরক্ষা কমিশনের ছাড়পত্র না মেলায় এতদিন তা আটকে ছিল।
অধীরের কথায়, "এলাকার মানুষ জানেন, এই সেতু নিমার্ণে আমার ভূমিকা কী ছিল। ভোটের মুখে বাইরে থেকে এসে কেউ সেই কৃতিত্ব নিতে চাইলেও এলাকার মানুষ তা হতে দেবেন না।"
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাখারভ সরকারের পাল্টা দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগাী হয়েছিলেন বলেই নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেলসেতু বাস্তবের মুখ দেখতে চলেছে। ফলে ভোটের মুখে অধীর সেই কৃতিত্ব নিতে চাইলে আমরা বরদাস্ত করব না।"
সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার দাবি, ‘‘এই সেতু নির্মাণে সংসদে সবথেকে বেশি দাবি জানিয়েছে বামেরা। তাই বাধ্য হয়ে রেলমন্ত্রক এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে। এখন বিজেপি বা কংগ্রেস সেই কৃতিত্ব নিতে চাইলে এলাকার মানুষ ওদের ক্ষমা করবে না।"