দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী তরজায় প্রত্যাশা মতোই প্রবেশ করল 'ফণী'। ত্রাণ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব বা 'দলবাজি'র অভিযোগ ওঠার আগেই প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ফোন নিয়ে তৈরি হল বিতর্ক। ঘূর্ণি ঝড়ে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের খবরাখবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন না করে রাজ্যপালকে ফোন করায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ন্যায়–নীতি লঙ্ঘন করেছেন এই অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে।
প্রধানমন্ত্রী দফতরের বক্তব্য, ঘূর্ণি ঝড় আক্রান্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যের বিষয়ে খবরাখবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলিয়ে দেওয়া। পরপর দু'বারের চেষ্টাই ব্যর্থ হয় কারণ দুবা্রই প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ফোন করে নেবেন। তার মধ্যে একবার বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী সফরে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে অগত্যা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী'র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং রাজ্যপালের কাছ থেকে নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের সাম্প্রতিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিতর্কটি শুরু হয় নরেন্দ্র মোদীর টুইটকে কেন্দ্র করে। সেই টুইটে মোদী রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিষয়টির উল্লেখ করেন। রাজ্যের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করে রাজ্যপালের কাছ থেকে খবর নেওয়া ''যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আক্রমণ এবং সংবিধান থেকে বিচ্যুতি' বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করা হয়। রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য হিসেবে আচরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল রাজনৈতিক আক্রমণ শানায় মোদী তথা বিজেপি'র বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এড়িয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি জানার জন্য রাজ্যপালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী ওড়িশার উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার খবর নেওয়ার জন্য সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেন অথচ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তাঁকে ফোন করতে হল রাজ্যপালকে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে দু'বার ফোন করেও না পাওয়ার তথ্যটি আজ জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে।