দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বর মাসের গোড়াতেই ভোট হতে পারে পড়শি রাজ্য বিহারে। তার আগে সাউথ ব্লক সূত্রে বড় খবর, শিগগির বিহারের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা বা সূচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রকল্পগুলির প্রায় সবই পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত। যার মাধ্যমে বিহারের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হতে পারে।
সূত্রের খবর, নতুন সড়ক ও সেতু নির্মাণ, নতুন রেল পথ নির্মাণ, নমামি গঙ্গে জল প্রকল্প, এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট সহ অন্তত দশটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা বা সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সচিবালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে এই পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ হলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারি সূত্রে এ খবর জানাজানি হওয়ার পর পর্যবেক্ষকরা প্রায় সকলেই তা বিহার নির্বাচনের সঙ্গে জুড়েই দেখছেন। অনেকের মতে, ভোটারদের বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ। এবং সেই কথার পিঠে এ প্রশ্নও উঠছে, বাংলাতেও ভোট আসছে। সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে এ রাজ্যের জন্যও কী কোনও ভাবনা রয়েছে দিল্লির?
সর্বভারতীয় বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলায় ক্ষমতায় এলে পরিকাঠামো উন্নয়নে যে জোর দেওয়া হবে সে কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কলকাতায় গিয়েই বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীও অতীতে তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, একুশে বাংলায় নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম ইস্যুই হবে বল্গাহীন দুর্নীতির প্রসঙ্গ। অতীতে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি হয়েছে। কিন্তু তার পরেও তা থেমে নেই। কোভিডের জন্য মানুষ যখন জীবন জীবিকা নিয়ে ঘোর সংকটে তার মধ্যেই রেশনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার পর আমফানের ত্রাণের টাকা লুঠের অভিযোগ উঠেছে। আর এখন অভিযোগ, কোভিডের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাতেও স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি হয়েছে।
সর্বভারতীয় বিজেপির ওই নেতা বলেন, এগুলো যেমন বিজেপির ভোট ইস্যু হবে। তেমনই বিকল্প সুশাসনের মডেল বাংলার মানুষের সামনে রাখবে দল। অর্থাৎ ভিশন ডকুমেন্ট পেশ করা হবে। কেন্দ্রে রাজ্যে একই সরকার থাকলে তার সুফল নিশ্চয়ই পাবে বাংলার মানুষ।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কেন্দ্রে-রাজ্যে একই সরকার থাকলে তার যে সুফল পাওয়া যায় তা অতীতে বাংলাতেও দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের শরিক ছিল তৃণমূল। তাই ২০১১ সালে বাংলায় কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ক্ষমতায় আসতেই মনমোহন সিংহ সরকার বাংলার পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য ৮৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। জঙ্গলমহল সহ রাজ্যের পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিতে তা দিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় কাজ হয়েছে। একই ভাবে গ্রামোন্নয়নের খাতে বাংলা সেই পাঁচ বছরে বড় টাকা পেয়েছে কেন্দ্রের থেকে। তা ছাড়া রেল প্রকল্প খাতেও প্রচুর অর্থ সাহায্য পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।