একুশে জেতার পর দু'দিক দিয়ে পেটানো হবে, বড় মস্তান তো আমি: মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলি তৃণমূল নেতাদের হলটা কী!
গতকাল, রবিবার উত্তরপাড়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন বেচারাম মান্না। বলেছিলেন, কেউ কেউ দল ভাঙিয়ে করে খাচ্ছেন আর কর্মীদের বঞ্চিত করছেন। সেই নেতাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে।
বেচারামের বক
শেষ আপডেট: 12 October 2020 08:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলি তৃণমূল নেতাদের হলটা কী!
গতকাল, রবিবার উত্তরপাড়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন বেচারাম মান্না। বলেছিলেন, কেউ কেউ দল ভাঙিয়ে করে খাচ্ছেন আর কর্মীদের বঞ্চিত করছেন। সেই নেতাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে।
বেচারামের বক্তৃতার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও তীব্রতায় বিস্ফোরণ ঘটালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা হুগলি জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তপন দাশগুপ্ত।
এদিন তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকা সপ্তগ্রামের কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তপনবাবু। সেখানেই তিনি বলেন, "কেউ কেউ বলছে সে নাকি মস্তান। আরে সবচেয়ে বড় মস্তান তো তপন দাশগুপ্ত। তুমি কী মস্তানি দেখাবে।" এখানেই থামেননি তিনি। এরপর তিনি বলেন, কেউ কেউ তাঁকে হারানোর ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর কথায়, " যারা চক্রান্ত করছে তাদেরও চক্রান্তের মধ্যে পড়তে হবে। আমার পুলিশ, আইবি দুনম্বরিদের তালিকা করবে। একুশে আমি আবার জিতব। তারপর আর এবার নজরুল গীতি, শ্যামা সঙ্গীত বাজবে না। দু'দিক দিয়ে পেটানো হবে।"
https://youtu.be/BLX9QWlH2-I
দু'দিক দিয়ে পেটানোর অর্থ কী?
তারও ব্যাখ্যা দেন তপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, "একদিকে সিপিএম-বিজেপিকে পেটানো হবে। আর অন্যদিকে দলের মধ্যে যারা মীরজাফর তাদেরও পেটানো হবে।" তিনি যে কী রুদ্রমূর্তি ধরতে পারেন তাও উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন। বলেন, "২০০৮ সালে মহানাদে ৪০টি গাড়ি নিয়ে সিপিএমকে পিটিয়েছিলাম। আমি দলের কর্মীদের অপমান সহ্য করব না। কোনও ভোগখোর নেতাকে মানব না।"

নাম না করে বিজেপির কিষাণ মোর্চার রাজ্য নেতা স্বরাজ ঘোষের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানান তপনবাবু। বলেন, "হাড়িটের এক প্রোমোটার দেখলাম মুকুল রায়ের সঙ্গে ছবি দিয়েছে। মুকুল রায়ের সঙ্গে ছবি দিলেই নেতা হয়ে গেল? কোমরে মেশিন নিয়ে ঘোরে বলে লোককে চমকায়। ও জানে না যে, মেশিনের মুখটা ঘুরিয়ে দিতে আমার এক মিনিট সময় লাগবে না।" প্রসঙ্গত, এই স্বরাজ ঘোষ ছিলেন তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে নেতা। ধনেখালির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অসীমা পাত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন তিনি। পরে বিজেপিতে যোগ দেন।
হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন সপ্তগ্রামের বিধায়ক। বলেন, "করোনার সময়ে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২ ধরে রাস্তায় রয়েছেন। আমিও আমার বিধানসভা এলাকায় রাস্তায় রয়েছি। কোথায় ছিলেন লকেট সুন্দরী?"
পর্যবেক্ষকদের মতে, হুগলি তৃণমূলের মধ্যে যে অস্থিরতা চলছে তা তপনবাবুর বক্তব্যেই পরিষ্কার। তা ছাড়া তপন বিরোধী গোষ্ঠীর অনেক নেতার বক্তব্য, একুশে কে প্রার্থী হবেন আর কে হবেন না সে তো দিদি ঠিক করবেন। আগাম নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা মানে তো তপন দাশগুপ্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে উঠতে চাইছেন।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, "সমাজবিরোধীরা যদি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান তাহলে এটাই হয়। নিজেই নিজেকে মস্তান বলছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল দলটা আসলে কারা করে।"