
শেষ আপডেট: 28 July 2023 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: এবার মক্কায় যাওয়া সেই তৃণমূল প্রার্থীকে (Minakhan TMC Candidate) তলব করল সিআইডি (CID)। বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই ভবানী ভবনে বিডিও অফিসের চার আধিকারিককে তলব করে ছিল সিআইডি। তাঁদের জেরার পর এবার ওই তৃণমূল প্রার্থী মইনুদ্দিন গাজিকে জেরা করতে চান তদন্তকারীরা। তাই আগামী ১ অগস্ট তাঁকে ভবানী ভবনে সশরীরের হাজির হতে বলেছে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা।
ঘটনাটি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে'র নজরদারিতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় রাজ্যের শীর্ষ আদালত। এরপরেই চলতি মাসে ২৪ জুলাই মিনাখাঁর বিডিও কামরুল হোসেন ওই চারজন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় সিআইডি।
হজ কমিটি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন সৌদি আরবে যান মিনাখাঁর কুমারজোল গ্রাম পঞ্চায়েতে বাসিন্দা মইনুদ্দিন গাজি। মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হয় গত ৯ জুন থেকে। শেষ হয় ১৫ জুন। কিন্তু ওই সময়ে মইনুদ্দিন গাজি মক্কাতে ছিলেন। স্ক্রুটিনির সময় দেখা যায় এই মইনুদ্দিনই কুমারজোলা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ঘটনাটি সামনে আসতে শোরগোল পড়ে যায়। কীভাবে ওই ব্যক্তি মক্কায় বসে মনোনয়ন জমা দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। পরে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলার শুনানির সময় আদালতে হজ কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়।
এই ঘটনায় বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেন মামলাকারীর আইনজীবী শামিম আহমেদ, সালোনি ভট্টাচার্যরা। তাঁরা এবিষয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ওই তৃণমূল প্রার্থী জানান, ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত আইন মেনে তাঁর প্রস্তাবক গত ১২ জুলাই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে মিনাখাঁ থানায় বিডিও শেখ কামরুল ইসলাম অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হাইকোর্ট এই মামলায় তদন্ত ভার দেয় সিআইডিকে। অভিযুক্ত তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে বিডিও অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যেককে নোটিশ পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই প্রার্থীর প্রস্তাবক সহ মোট সাতজনকে ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: মক্কা থেকে কীভাবে মনোনয়ন! এবার বিডিও অফিসের ৪ কর্মীকে তলব করল সিআইডি