দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ উপত্যকায় বড়সড় হামলার ছক কষছে, এমন আভাস আগেই দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের পর থেকে কাশ্মীরে ফের জইশ নাশকতার আতঙ্ক ছড়াল। রাজ্য পুলিশ ও সেনা সূত্রে খবর, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে গুজ্জর সম্প্রদায়ের দুই পশুপালককে। তাঁদের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে পুলওয়ামার ত্রালের ঘন জঙ্গল থেকে।
সোমবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ রাজৌরি জেলা থেকে আবদুল কাদের কোহালি এবং শ্রীনগর থেকে মনজুর আহমেদ নামে দুই গুজ্জর যুবককে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র আততায়ীরা। পুলিশ ও সেনার দাবি, অপহরণকারীরা সকলেই ছিল উপত্যকার জইশ ঘাঁটির সক্রিয় সদস্য। কোহালি ও আহমেদকে তারা নিয়ে যায় ত্রালের ঘন জঙ্গলের ভিতরে নিজেদের ঠিকানায়। সেখানেই অত্য়াচার চালানো হয় দু’জনের উপর।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দিলবাগ সিং জানিয়েছেন, সোমবার রাতেই কোহালির দেহ উদ্ধার হয়। আহমেদের গুলিবিদ্ধ ছিন্নভিন্ন দেহ মেলে মঙ্গলবার সকালে। দু’জনের দেহই ত্রালের ঘন জঙ্গলের ভিতরে ফেলে রেখে গিয়েছিল জঙ্গিরা।
গত ৫ অগস্ট ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে উপত্যকা। অতিরিক্ত কয়েক হাজার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে কাশ্মীরে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, উপত্যকার নানা জায়গায় অশান্তি তৈরি করার জন্য প্রায় ৪১০০ জনকে গ্রেফতার বা আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ দিকে ২০ অগস্ট, বারামুলায় গুলির লড়াইয়ে নিকেশ হয়েছে এক লস্কর জঙ্গি। প্রাণ গিয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল গ্রুপের এক অফিসারেরও। উপত্যকায় শান্তি ফেরানো প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা।