
শেষ আপডেট: 21 August 2023 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: পিংলায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত (Midnapore court about Pingla firecracker factory blast)। রায় ঘোষণার পরেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন সদ্য সাজাপ্রাপ্ত নিমাই মাইতির স্ত্রী। তিনি জানান, সিআইডি কুড়ি লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়াতেই ফাঁসানো হয়েছে তাঁর স্বামীকে। এর পিছনে রাজনীতিও রয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান তিনি।
সোমবার মেদিনীপুর জেলা আদালতের ফার্স্ট অ্যাডিশনাল কোর্টের বিচারক সালিম সাহি এই সাজা ঘোষণা করেন। সিআইডির আইনজীবী দেবাশিস মাইতি বলেন, “ওই ঘটনায় ১০ জন শিশু-সহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিচারক ১১ টি ধারায় সাজা ও আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বোচ্চ সাজা ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের জেল। মৃত শিশু শ্রমিকদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রসূন দাস অধিকারী জানান, এই রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করে উচ্চ আদালতে যাবেন তাঁরা। ২০১৫ সালের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড় গ্রামে বাজি কারখানায় পরপর বিস্ফোরণে ১০জন শিশুশ্রমিক-সহ প্রাণ গিয়েছিল ১৩ জনের। ওই ঘটনায় শনিবার তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন নীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনি অবসর গ্রহণ করলেও এদিন আদালতে হাজির ছিলেন। গোড়ায় তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্তভার হাতে নিয়েছিল সিআইডি। ওই ঘটনায় পিংলার তৃণমূলকর্মী রঞ্জন মাইতি, রঞ্জনের ভাই নিমাই মাইতি এবং মুর্শিদাবাদ এর সুরজ শেখকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৫, ২৮৬, ৩২৩, ৩০৪ পার্ট টু, ৩৪ এবং জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের একাধিক ধারা এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যাক্টের ধারায় এদিন সাজা ঘোষণা করেন বিচারক।
রায় ঘোষণার পরে আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সদ্য সাজাপ্রাপ্ত নিমাই মাইতির স্ত্রী সুলেখা মাইতি। তিনি বলেন, “আমার স্বামীকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সিআইডি কুড়ি লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়েছিল। না দেওয়ার জন্যেই এভাবে আমার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে রয়েছেন পুলিশ ও তৃণমূলের নেতারা।
আরও পড়ুন: ১০ হাজার টাকায় টেলিস্কোপ! দাঁতনের গ্রামে চন্দ্রযান-৩ এর অবতরণ দেখার আয়োজন