
শেষ আপডেট: 8 November 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতে কালীপুজোর আগের রাত থেকেই দিদির বাড়ি বরাবর উৎসব মুখর। সে পরিবেশ থাকে ভাইফোঁটার দিন পর্যন্ত।
তৃণমূলে তিনি সর্বজনীন দিদি। কিন্তু দলের কতজনকেই বা ডেকে ফোঁটা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁদের সঙ্গে তাঁর এক্কেবারে স্নেহের সম্পর্ক, ফি বছর তাঁদের বাড়িতে ডেকে ফোঁটা দেন দিদি। সেই তালিকায় প্রতিবারই অতি সামান্য কিছু অদলবদল হলেও দক্ষিণ কলকাতার কয়েকজন চেনা মুখ প্রতিবারই থাকে। বিশেষ করে, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তমোনাশ ঘোষ। কিন্তু এ বার, স্মরণকালের মধ্যে এই প্রথম দিদির বাড়ির ভাইফোঁটায় দেখা গেল না কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, ভাইফোঁটায় দিদির নিমন্ত্রণ কি এ বার পাননি শোভন? নাকি শোভন নিজেই যাননি ফোঁটা নিতে? এ ব্যাপারে কোনও তরফ থেকে কোনও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। শুধু সাদাকালোয় একটি বিষয়ই লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, কালীঘাটে দিদির বাড়িতে শুক্রবার শোভন যাননি। তিনি না গেলেও এ দিন সকালেই দিদির ফোঁটা নিয়েছেন দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। পরে সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তালড্যাংরার বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী, সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা ফোঁটা নেন।
তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, দিদির বাড়ির ফোঁটার নিয়ম রয়েছে। দিদি যাঁদের ফোঁটা দেবেন তাঁদের কাছে আগের দিন কালীঘাট থেকে ফোন যায়। প্রত্যেককে একটা নির্দিষ্ট সময় বলা হয়। তখন গেলে দিদি ফোঁটা দেন। তার পর একটু মুখ মিষ্টি করিয়ে পাজামা-পাঞ্জাবি ও সঙ্গে একটি বড় সড় লাঞ্চ প্যাক দেন। এ বারও তার অন্যথা হয়নি।
কিন্তু শোভন কোথায়?
দ্য ওয়ালের তরফে শোভনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তৃণমূল সূত্র বলছে, বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ইদানীং দিদির সঙ্গে শোভনের সম্পর্কে রৌদ্রছায়া চলছে। এমনকী সম্প্রতি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফার প্রস্তাবও শোভন দিদির কাছে পেড়েছিলেন বলে খবর। দিদির বাড়িতে কালীপুজোতেও শোভনকে এ বার দেখা যায়নি।
তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার এক নেতার কথায়, গোটা ব্যাপারটাই অবাক করার মতো। একটা সময় ছিল যখন কাননকে (শোভনকে স্নেহভরে ওই নামেই ডাকেন মমতা) চোখে হারাতেন দিদি। কালীঘাটের বাড়িতে যে কোনও উৎসবে অনুষ্ঠানে কাননই ছিলেন মধুসূদন দাদা। তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় বহু সময় বাড়ি থেকে রান্না করে খাবার পাঠাতেন দিদির জন্য। কিন্তু সেই কাননকেই কিনা দেখা গেল না ভাইফোঁটার দিনে!