
শেষ আপডেট: 11 May 2023 08:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: খাবার জলতো দূর-অস্ত, নিত্য ব্যবহারের জলও নেই। কীভাবে চলবে দিন! ফাঁকা জলের বালতি নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হলেন ময়নাগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা (Maynaguri is in turmoil)।
বাসিন্দারা জানান, এলাকায় জলের কোনও পাইপলাইন নেই। কুয়োগুলিও সব শুকিয়ে গেছে। আধ কিলোমিটার দূরে নদী থেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে জল। না আনতে পারলে জল কিনে পান করার পাশাপাশি সেই কেনা জল দিয়েই বাসন ধোয়া, স্নান, এমনকী শৌচকর্মও সারতে হচ্ছে (there is no water for toilet)। এলাকার বাসিন্দা শিখা মল্লিক, খোকন মল্লিকরা বলেন, “দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জলের জন্য কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের। এলাকার সমস্ত কুয়ো শুকিয়ে গেছে। আধ কিলোমিটার হেঁটে নদী থেকে জল নিয়ে আসতে হচ্ছে। না হলে জল কিনে সারতে হয় সবকিছু। অত টাকা কোথায়! তাই নদীই আমাদের একমাত্র ভরসা।” দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
জলের কষ্টের জন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবন দাস দুষলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরকে। তিনি বলেন, “প্রায় হাজার তিনেক লোক জলের কষ্টে দিন যাপন করছেন। আমি নিজে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে এলাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁদের কোনও হেলদোল নেই। কথা শুনতে হচ্ছে আমাকে। এর আগেও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে দরখাস্ত দিয়েছি। তাদের গাফিলতির জন্যই মানুষের এমন পরিণতি।”
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর আবার পুরো বিষয়টির জন্য প্রশাসনিক সমস্যাকেই দায়ী করেছে। জলপাইগুড়ি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অমিতাভ দত্ত জানান, ময়নাগুড়ি ব্লকের একটি অংশ নিয়ে সম্প্রতি পুরসভা গঠন হয়েছে। প্রশাসনিক হস্তান্তর সংক্রান্ত কাজকর্ম এখনও সম্পন্ন হয়নি। কিছু এলাকায় পাইপলাইন বসানো নিয়ে বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় সংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে। সেগুলো দ্রুত মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমস্যা মিটে গেলেই জলের সমস্যারও সমাধান হবে।
এই প্রশাসনিক জট কাটিয়ে কবে ময়নাগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে জল আসবে তা নিয়ে নিশ্চিত নন বাসিন্দারা। এই গরমে প্রতিদিন জলের জন্য ধুঁকছেন তাঁরা আর ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের।
বিজেপি এমএলএ-র ভাই ও ভাইয়ের বউয়ের মৃত্যুতে তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার