দ্য ওয়াল ব্যুরো: জইশ-প্রধান মাসুদ আজহার বেঁচে আছে। এমনই দাবি করা হল জইশ-ই-মহম্মদের তরফে। রবিবার দিনভর মাসুদের মৃত্যু নিয়ে বহু জল্পনা ছড়ানোর পরে, শেষমেশ সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে জইশ বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, "শ্রদ্ধেয় মাসুদ আজ়হার আল্লার কৃপায় নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।"
গত মাসের ১৪ তারিখে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় ৪৪ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হওয়ার পরে হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ। তার ১২ দিন পরেই, ২৬ তারিখ কাকভোরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে জঙ্গি শিবির ধ্বংস করে ভারতীয় বায়ুসেনা। সূত্র মারফত খবর মেলে, খতম হয়েছে মাসুদের একাধিক আত্মীয়-সহ বহু জঙ্গি।
এর পরেই পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী মাহমুদ কুরেশি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করে, জইশ-প্রধান মাসুদ আজহারের শরীর খুবই অসুস্থ। জানা যায়, কিডনির অসুখ নিয়ে রাওয়ালপিণ্ডির সেনা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে মাসুদ। একটি কিডনি বিকল। নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে তার।
রবিবার দুপুর থেকেই জল্পনা ছড়াতে শুরু করে, এ বার দ্বিতীয় কিডনি বিকল হওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অন্য একটি সূত্রের আবার দাবি, বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার স্ট্রাইকেই মৃত্যু হয়েছে মাসুদ আজহারের। যদিও মাসুদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান। ফলে জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানের মৃত্যু নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল দিনভর।
ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জে মাসুদ আজহারকে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট ঘোষণা করার জন্য প্রস্তাব এনেছে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা ও রাশিয়া। তাই কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মাসুদ আজহারকে আড়াল করতেই হয়তো এমন খবর রটাচ্ছে পাকিস্তান। জইশ প্রধানকে নিরাপদ শেল্টার দিতে মাসুদের মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পিছনে পাকিস্তানের কোনও অভিসন্ধি রয়েছে বলেও মত কূটনৈতিক মহলের।
৫০ বছরের মাসুদ আজ়হারের বিরুদ্ধে অসংখ্য সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৪ সালে অনন্তনাগে বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে ধরা পড়ার পরে শ্রীনগরের জেলে বন্দিও হয়েছিল সে। কিন্তু ১৯৯৯-এর ডিসেম্বরে বিমান হাইজ্যাক করে যাত্রীদের পণবন্দি বানিয়ে আজহারকে ছাড়িয়ে নেয় জইশ জঙ্গিরা।
তার পরেই ২০ বছর ধরে তৈরি হয় জইশ-ই-মহম্মদ।
আরও পড়ুন...
https://thewall.in/the-moulavi-with-the-limp-was-masood-azhar/