মধুরিমা রায়
তুখোড় ভলিবল প্লেয়ার ছিলেন তিনি। আর সেই দক্ষতাই তাঁকে সেনার চাকরি পাইয়ে দিয়েছিল। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গ্রামের বাজারে এক সময়ে মাছ বিক্রি করা যুবক বাবলু সাঁতরা হাসিমুখে যোগ দিয়েছিলেন সে চাকরিতে। সাত চড়ে রা না কাড়া শান্ত ছেলেটিকে কয়েক বছর আগে এমন চাকরিতে যোগ দিতে দেখে অবাক হয়েছিলেন সকলে। একই সঙ্গে হয়েছিলেন গর্বিত।
কিন্তু গত ডিসেম্বরেও যখন বাবলু বাউরিয়ার গ্রামে ফিরে পাড়ার মাঠ মাতিয়ে ভলিবল খেললেন, তখনও কেউ ভাবতে পারেননি এই তাঁর শেষ খেলা, শেষ আসা! কেউ আন্দাজও করতে পারেননি, ৩৯ বছরের তরতাজা যুবকের প্রাণ চলে যাবে জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে। প্রতিবেশীরা ভাবতে পারছেন না, এই মাঠে আর কখনও খেলবেন না বাবলু!
এই মৃত্যুকে অবশ্য শুধু মৃত্যু নয়, হত্যা বলেই মনে করছেন বাবলুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকেই। তীব্র অভিমান থেকে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, "সরকারি গাফিলতি না থাকলে অত বিস্ফোরণ ভর্তি গাড়ি সমস্ত নজরদারি পেরিয়ে কী করে ঢুকে গেল শহরে!" প্রশ্ন তুলেছেন, "আগে থেকে কেন খবর ছিল না গোয়েন্দা দফতরের কাছে। আগাম রিপোর্ট থাকার পরেও কী করে এত গা-ছাড়া মনোভাব দেখাল সরকার!" তাঁরা দাবি করছেন, সরকার নিরাপত্তা দিতে না পারলে সেনার হাতেই তুলে দিক কাশ্মীর!
কাল থেকে মুহূর্তের জন্য কান্না থামেনি বাবলুর মা, ৭০ বছরের বনলতা সাঁতরার। বারবার বলছেন, "ছেলে চলে গেল, আর কারও কাছে কিচ্ছু চাওয়ার নেই।" পরিবারের সদস্যরা একটাই কথা বলছেন, "আর কেউ যেন এই চাকরিতে না যায়।"
দেখে নিন, পরিবারের কথা।
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/2203632543287082/
বাবলুর দিদি জানালেন, পরশু রাতে শেষ কথা হয়েছিল বাবলুর সঙ্গে। ঘরোয়া কথাবার্তা। কাল রাত থেকে আর ফোন আসেনি। দিন পনেরো আগেই আরও একটি বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে বাবলুর পরিবারে। মারা গিয়েছেন তাঁর মেজো জামাইবাবু। দিদির দায়িত্বও নিয়েছিলেন বাবলুই। সেই সঙ্গে রয়েছেন বাবলুরর স্ত্রী মিতা, ছ'বছরের ছোট্টো মেয়ে পিয়াল। "সবটা ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেল বাবলু।"-- বলছেন সকলে।
আরও পড়ুন:
পুলওয়ামায় বাংলার আরেক শহিদ সুদীপ, হাঁসপুকুরিয়ার বাড়িতে ঘন ঘন জ্ঞান হারাচ্ছেন মা
প্রতিবেশীদের একাংশ অবশ্য সরব হয়েছেন বদলার দাবিতে। জোর গলায় বলছেন, আরও রক্ত পড়ুক, আরও শহিদ বাড়ুক, তবু স্থায়ী সমাধান হোক এই সমস্যার। তাঁদের দাবি, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ুক সকলে।

সেনা সূত্রে খবর এসেছে, দলাপাকানো রক্ত-উর্দির ভিতর থেকে চেনা যায়নি বাবলুকে। হাতের আংটি দেখে চিহ্নিত করা গিয়েছে তাঁকে। খানিক ক্ষণ আগেই বাউরিয়া থানার পুলিশ অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছে বাবলুর মৃত্যু।
বাবলুর স্মৃতিতে আগামী কাল বন্ধ থাকবে চককাশী বাজার। এই বাজারেই এক সময় মাছ বিক্রি করেছেন বাবলু।
https://www.youtube.com/watch?v=LhCgd9UUfdE&feature=youtu.be
দেখে নিন, তাঁর প্রতিবেশীদের কথা।
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/756560611375085/