দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত উলেন রায়ের স্মরণ সভা এদিন পরিণত হল জনসভায়।
আজ, রবিবার বিকেলে রাজগঞ্জে উলেন রায়ের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সহ-সভাপতি দীপেন প্রামাণিক, রাজ্য যুব মোর্চা লাভ্যার্থী যোজনা আহ্বায়ক শ্যাম প্রসাদ-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা কর্মীরা। এদিনের স্মরন সভায় ব্যাপক জনসমাগম হয়। স্মরনসভা কার্যত রূপ নেয় ছোটখাটো জনসভায়।
গত ৭ই ডিসেম্বর ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার ডাকে উত্তরকন্যা অভিযানে যান বিজেপি কর্মী উলেন রায়। ওই দিন বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে উত্তরকন্যার কাছাকাছি গেলে পুলিশ সেই মিছিলের ওপর লাঠিচার্জ করে। তাতেও বিজেপি কর্মীরা না দমলে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানোর পাশাপাশি গুলিও চালায় পুলিশ। পুলিশের ছোড়া গুলিতে ৫০ বছরের উলেন রায়ের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি।
উলেন রায়ের মৃত্যুকে ইস্যু করে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে দফায় দফায় বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতা, নেত্রী আসার পরে আগামী ২৪ ডিসেম্বর রাজগঞ্জে আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি উলেন রায়ের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে খবর বিজেপি সূত্রের৷
কিন্তু উলেন রায়ের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন। কারণ দেখা যায়, খুব কাছ থেকে ছোড়া যে শটগানের গুলিতে উলেন রায়ের মৃত্যু হয়েছে, তা পুলিশ ব্যবহার করে না। জেলা পুলিশ পাল্টা দাবি করেস মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিল বিজেপি।
শেষমেশ মামলা গড়ায় আদালতে। এর পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দিলে সেই রিপোর্ট দেখে অনেকাংশে সন্তুষ্ট হয়ে মামলা থেকে পিছিয়ে এসে উলেন রায়েক দেহ নিয়ে তাঁর নিজের বাড়িতে এনে বাড়ির পাশে তাকে সমাহিত করে তাঁর পরিবার।
ইতিমধ্যেই সেই সমাধির পাশে স্মৃতি সৌধ নির্মান করতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্যর পাশাপাশি পরিবারের আজীবন দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপির চার সাংসদ।