
শেষ আপডেট: 8 December 2021 05:32
জানা গেছে, ৪২ বছরের পিন্টু গুড়িয়া গড়বেতার বিখ্যাত ট্যুরিস্ট স্পট গনগনি ডাঙার কাছে আগরা অঞ্চলের ভিকনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সোমবার রাতে বাবা ধীরেনের সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন শিলাবতী নদীতে। এর আগেও এমন বহুবার গেছেন তাঁরা।
কিন্তু সোমবার ঘটে গেল বিপদ। আচমকাই দলছুট একটি হাতির সামনে পড়ে গেলেন তাঁরা। ধীরেন কোনও রকমে ছুটে পালিয়ে যেতে পারলেও, রক্ষা পাননি পিন্টু। হাতি তাঁকে শুঁড়ে করে জড়িয়ে তুলে নেয়। তার পরে আছড়ে মারে নীচে। মাটিতে আছড়ালে হয়তো সেখানেই প্রাণ বেরিয়ে যেত তাঁর। কিন্তু পিন্টু ছিটকে পড়েন নদীতে। রক্তাক্ত, জখম অবস্থায় ছটফট করতে থাকেন নদীর জলে।
কিন্তু সে হাতিও ছাড়ার পাত্র নয়। তার যেন রাগ কমছে না। সে যেন পণ করেছে, আজ শেষ দেখেই ছাড়বে। তাই সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল পাড়ে! কখনও আবার পিন্টুর উদ্দেশে জলের গভীরে খানিকটা নেমে চিৎকার করল একটানা।
প্রাণের ভয়ে জখম পিন্টুও তখন নদীতেই এদিক-ওদিক সাঁতরাতে থাকেন। কিন্তু সে কী বড় সহজ কথা! এভাবে কেটে যায় ঘণ্টা খানেক। তার পরে শিকারের আশা ত্যাগ করে হাতিটি চলে যায় অন্যত্র। তখন আরও খানিক সাঁতরে কোনও রকমে জল থেকে ওঠেন পিন্টু, বিধ্বস্ত অবস্থায় পৌঁছন বাড়িতে।
সোমবার রাতের এই ঘটনায় বাড়িতেই প্রাথমিক শুশ্রূষা করা হয় তাঁর, তার পরে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটলেই নিয়ে যাওয়া হয় গড়বেতা গ্রামীণ হাসপাতালে। তাঁকে ভর্তি করানো হয় সেখানে। পরে আরও কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বিষ্ণুপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয় পিন্টুকে।
পরিবার, প্রতিবেশীরা বলছেন, হাতির শুঁড়ে অমন আছাড় খেয়েও যে এতটা সাহস দেখানো যায়, এতটা মনের জোর দেখানো যায়, তা যেন অবিশ্বাস্য। লাগাতার একটানা ওভাবে জলে সাঁতরে, ভেসে, ডুবে থাকতে না পারলে হয়তো প্রাণেই বাঁচত না পিন্টু।
গড়বেতা ফরেস্ট রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার চঞ্চল গোস্বামী জানিয়েছেন, পিন্টুকে আক্রমণ করার পরে হাতিটি নদীর পাড়ের একটি আশ্রমও তছনছ করে। দলছুট ওই হাতি সম্পর্কে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। আহত পিন্টু গুড়িয়ার খোঁজখবরও নেওয়া হয়েছে বন দফতরের তরফে।