নেশা করার টাকা চেয়ে না পেয়ে মাকে কুপিয়ে খুন করল নদিয়ার যুবক
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: নেশার টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাকে খুন করল ছেলে। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ব্যক্তির ভাইয়ের বউও। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চাকদহ থানার বালিয়াডাঙা যুবগোষ্ঠী সাহা পাড়ায় বৃহস্পত
শেষ আপডেট: 26 June 2020 07:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: নেশার টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাকে খুন করল ছেলে। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ব্যক্তির ভাইয়ের বউও। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চাকদহ থানার বালিয়াডাঙা যুবগোষ্ঠী সাহা পাড়ায় বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম নির্মলা বিশ্বাস (৬০)। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেশায় আসক্ত বছর ৩৮ এর যুবক সুকুমার বিশ্বাস। নেশার জন্য টাকা চেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিত্য অশান্তি করত সুকুমার। বাড়িতে রয়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা, দুই দাদা-বৌদি ও এক বোন। পড়শিরা জানিয়েছেন, কোনও কাজকর্ম করত না সুকুমার। সারাক্ষণ নেশা করে পড়ে থাকত। টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করত। বাধা দিতে এসে বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছেন পড়শিরাও।
জানা গেছে, ২০১২ সালে নেশার টাকা না পেয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিজের বোনের উপর চড়াও হয়েছিল সুকুমার। অস্ত্র দিয়ে কোপালেও সে যাত্রা কোনওভাবে বেঁচে গিয়েছিল তার বোন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা চলে ওই তরুণীর। কিন্তু সুকুমারের আক্রমণে থেকে রক্ষা পেলেন না তার মা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নেশা করার জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে পরিবারের সকলের সাথে গন্ডগোল বাধে সুকুমারের। গন্ডগোল চরমে উঠলে ধারালো দা নিয়ে মায়ের দিকে ধেয়ে যায় সুকুমার। তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। বাধা দিতে গেলে সুকুমারের বৌদিও গুরুতর জখম হন। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পড়শিরা। আহত দুজনকে চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা নির্মলা বিশ্বাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবিকা বিশ্বাস।
এই ঘটনার পরেই সবার চোখ এড়িয়ে পালিয়ে যায় সুকুমার। পরে এলাকারই একটি মদের দোকানে তার হদিশ পেয়ে শুরু হয় গণধোলাই। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরে হাত-পা বেঁধে সুকুমারকে পুকুরে ফেলে দেয় উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পাড়ার লোকের অভিযোগ, কেউ কিছু বলতে গেলেই অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখাত সুকুমার। এর জন্য হাতের কাছে ধারাল অস্ত্র রাখত সে। তাই নেশার করার জন্য টাকার দাবিতে বাড়িতে অশান্তি করলেও সাহস করে কেউ কিছু বলত না।