
শেষ আপডেট: 2 July 2018 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু’দিন আগে পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্র ভর্তিতে দূর্নীতি দেখলেই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে দেন মমতা। এরপর বেশ কয়েকটি কলেজে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন শাসক দলের ছাত্র নেতাদের গ্রেফতারও করে পুলিশ। এমনকি রবিবার রাতে জয়পুরিয়া কলেজের টিএমসিপি নেতা তিতান সাহাকে পাকড়াও করে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু এর পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শিক্ষামন্ত্রীকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: কলেজের মধ্যে ছাত্র খুন
সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ মমতার কালীঘাটের বাড়িতে যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় শিক্ষামন্ত্রীর। সেই বৈঠকে পার্থকে মমতা বলেন, ‘কলেজে ভর্তি নিয়ে এই টাকা তোলা কোনও ভাবে মানা যাবে না। ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই কাজ রুখতে যত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয় তাই নিতে হবে।’
এরপরই মমতা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে চলে যান হাজরা মোড়ের কাছে আশুতোষ কলেজে। হঠাৎ হানা দেওয়া তাঁর নিজস্বতা। সে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল হোক আর আশুতোষ কলেজ। সেখানে গিয়ে মমতা বলেন, ‘নিজের কলেজে দেখতে এসেছি।’ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও পৌঁছে যান সুরেন্দ্রনাথ কলেজে।
আরও পড়ুন: পদ বাঁচাতে নড়ে বসলেন জয়া
উচ্চমাধ্যমিকের ফল বেরনোর পর থেকেই কলেজে ভর্তি ঘিরে টিএমসিপি’র ‘অ্যাডমিশন সিন্ডিকেট’ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। কলেজগুলির দোরগোড়ায় পৌঁছনোর আগে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের পাকড়াও করে নিচ্ছে শাসক দলের ছাত্র নেতারা। তারপর চলছে টাকার রফা। কোথাও ব্র্যান্ডেড দোকানের মতো ফিক্সড প্রাইস কোথাও আবার নিউমার্কেটের মতো। বাড়িয়ে দাম বলে তারপর একটু কমিয়ে রফা। জেলা সহ কলকাতার কলেজগুলির এই চিত্রের খবর নবান্নে পৌঁছতে সময় লাগেনি।
https://www.youtube.com/watch?v=UMEzlcaf0qM
প্রথমবার নিজে বলেন পুলিশকে। তাতেও পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় আজ শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে পাঠান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার জনভিত্তির চাবিকাঠি যে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত অংশ, তারাই এই ‘অ্যাডমিশন সিন্ডিকেট’-এর শিকার। ফলে মমতার হস্তক্ষেপ অনিবার্য ছিল দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য।
শিক্ষামহলের একটা অংশ অবশ্য এতে বিশেষ আশা দেখছেন না। তাঁদের মতে, গত পাঁচ-সাত বছরে ভর্তি দূর্নীতির শিকড় এতটাই গভীরে পৌঁছেছে যে এত দ্রুত একে সমূলে উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়।
বিরোধীদের বক্তব্য, এ সবই আইওয়াশ। কলকাতার কলেজগুলোতে এই ছবি হলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার কলেজগুলিতে কী ছবি তা আন্দাজ করাই যায়।
https://www.youtube.com/watch?v=z8TIGqG78AU
কলেজে ছাত্রভর্তি নিয়ে সরকারের ওপরে চাপ বাড়াচ্ছেন বিরোধীরাও । বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এক খোলা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন, কলকাতা ও অন্যান্য জেলাগুলিতে ছাত্র ভর্তি নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি হচ্ছে । ফলে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ।
শাসক দলের ছাত্র সংগঠনকে কটাক্ষ করে সুজনবাবু লিখেছেন, মেধাতালিকাকে তোয়াক্কা না করে জবরদস্তি কলেজের ছাত্র সংসদ দখল করে থাকা গুটিকতক ছাত্র ও অছাত্র নির্বিচারে এই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে ।
চিঠির শেষে সুজনবাবু লিখেছেন, আমি দাবি করছি, অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করার ।