নিট পরীক্ষায় অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে বাংলা মাধ্যমের পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরকে চিঠি পাঠিয়ে মমতা এই মর্মে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনে তিনি পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিও তুলেছেন।
রবিবারই নিট পরীক্ষায় বাংলা মাধ্যমের পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বাংলা প্রশ্নপত্র ছিল না বলে নানা কেন্দ্র থেকে অভিযোগ উঠেছিল। এ দিনের মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে পরীক্ষার্থীদের সেই অভিযোগই আরও পোক্ত হয়েছে। যেখানে তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের বেশ কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম প্রশ্নপত্র ছিল। ফলে বহু কেন্দ্রেই পরীক্ষার্থীরা জেরক্স করা প্রশ্নের ভিত্তিতে উত্তর দিয়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়ারা ইংরেজি প্রশ্নপত্রেই উত্তর দিতে বাধ্য হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার কাশীপুর সেন্ট্রাল স্কুল এবং হুগলির কোন্নগরের টেকনো ইন্ডিয়ার স্কুলের ঘটনা তুলে ধরেছেন। যেখানে এই ধরনের প্রশ্ন-বিভ্রাট ঘটেছে। পরীক্ষার্থীদের মতোই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, একজন পরীক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট কোডযুক্ত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রই বরাদ্দ হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে যারা জেরক্স প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় বসলেন, তাদের মূল্যায়নের ভবিষ্যৎ কী? এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে এমন পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নের জন্য গ্রাহ্য করার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, সিবিএসসি-র পরিচালনায় এই নিট পরীক্ষায় এক বিভ্রাট গত বছরও দেখা দিয়েছিল। ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। ভবিষ্যতে যাতে বাংলা মাধ্যমের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আর এমন বঞ্চনা না হয়, তা-ও সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তিনি। এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে নিট পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী এ ভাবে পাশে দাঁড়ানোয় খুশি নিট পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকেরা। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, "কেন্দ্র সরকার আসলে সবার উপরে হিন্দি চাপিয়ে দিতে চায়। দেশের আঞ্চলিক ভাষা এবং তার ব্যবহারকারীদের নিয়ে ওদের কোনও মাথাব্যথা নেই। তাই বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়াদের সঙ্গে বারবার এমন বঞ্চনা।" এর ফলে সর্ব ভারতীয় স্তরে বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়ারা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছেন বলে শিক্ষাবিদদের মত। এ নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি রাজ্যের বিজেপি নেতারা।