দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর আগে পর্যন্ত এক জন ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ডম্যান। অন্য জন জেলার বাহুবলী নেতা। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে ছোট বড় ঝড় ঝঞ্ঝাটে তিনিই ছিলেন দিদির মধুসূদন!
বৃহস্পতিবার ভাটপাড়ার জনসভা থেকে সেই দু’জন মুকুল রায় ও অর্জুন সিংহকে নাম না করে গদ্দার বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক ভাবে তাঁদের বেআব্রু করে দেওয়ারও চেষ্টা করলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুকুল রায়ের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণটা এখনও রহস্য। তুলনায় অর্জুনের ব্যাপারটা অনেকটাই জানা। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে এ বার টিকিট চেয়েছিলেন অর্জুন। বলেছিলেন, আর কাক হয়ে কোকিলের ছানা বড় করব না। দীনেশ ত্রিবেদীকে দায়িত্ব নিয়ে না জিতিয়ে নিজেই জিততে চাই। কিন্তু দিদি তাঁকে টিকিট দেননি। তাই তৃণমূল ছেড়েছেন অর্জুন।
এ দিন সেই অর্জুনেরই দুর্গ ভাটপাড়ায় গিয়ে মমতা বলেন, “কেউ কেউ এমনও হন যে যতই দাও ওদের আশ মেটে না। এই জেলাতেই এরকম দু’জন আছে। ওদের এমপি করতে হবে, এমএলএ করতে হবে, দোকান দিতে হবে, হোটেল দিতে হবে, মল দিতে হবে, পাব দিতে হবে, মকান দিতে হবে, গার্ডেন দিতে হবে, বাজার দিতে হবে। সব চাই ওদের। আমি এত কিছু কী ভাবে দেব? দিতে দিতে খালি হয়ে গেছি।”
এখানেই থামেননি দিদি। প্রায় এক নিঃশ্বাসে বলেন, কেউ ওদের সন্তুষ্ট করতে পারবে না। তা ছাড়া নেওয়ার তো একটা ক্ষমতা থাকে মানুষের। কিন্তু তা না ওদের শুধু চাই চাই চাই। সব একলাই খেয়ে নেবে! বাকিরা কী অপরাধ করেছে!
তৃণমূল জমানায় ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুরে এতদিন অর্জুনেরই রাজ চলত। তৃণমূলের অনেকের মতে, সেই পরিস্থিতিতে দলের কারও কারও অপ্রাপ্তির খিদে রয়েছে। কেউ কেউ বা মনে করতে শুরু করেছেন, অর্জুন বিদেয় হওয়ার পর এ বার তাঁরা পা জমাতে পারবেন। অনেকের মতে, দলের ওই অংশকেই বৃহস্পতিবার উজ্জীবিত করতে চাইলেন মমতা। যাতে করে তাঁরা সমস্ত শক্তি লাগিয়ে অর্জুনের পরাজয় নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ ছাড়াও অনুন্নয়নের প্রশ্নেও এ দিন অর্জুনের সমালোচনা করেন মমতা। সেই সঙ্গে স্থানীয় হিন্দিভাষী হিন্দুদের আবেগ উস্কে দিতে বলেন, এত দিন ধরে তো এখানে রাজত্ব চালাচ্ছে। ছট পুজোর জন্য গঙ্গার একটাও ঘাট হয়নি কেন ওঁর কাছে জানতে চান। কলকাতায় তো আমি সব করে দিয়েছি। ব্যারাকপুর, কল্যাণীর মাঝামাঝি কোথাও দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ে তোলার কথাও বলেন মমতা।
তার পর ঘুরে ফিরে চলে আসেন পুরনো প্রসঙ্গে। অর্জুনের নাম না করে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গুন্ডা-গদ্দারি চলবে না। ভোটে তো হারবে। তার পর কী করবে? আমরা তো ক্ষমতাতেই থাকব। ভাটপাড়া অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক অশান্তির পরিবেশ যাতে তৈরি না করা হয় সে জন্যও সতর্ক করেন তৃণমূলনেত্রী।
এ ব্যাপারে অর্জুন বা মুকুল এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে জেলার এক সিপিএম নেতা বলেন, এই তো দিদি! কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলে পাজি। এত দিন ওনার আস্কারাতেই মুকুল-অর্জুনরা খেয়ে পরে ছিলেন। তখন তাঁদের তোয়াজ করেছে কে? কেই বা আদিখ্যেতা করেছে? তাঁর কথায়, অর্জুনের উপর তৃণমূলের বাকিদের রাগের কারণও তো দিদি ফাঁস করে দিলেন এ দিন। তা হল, অর্জুন একা খাবে কেন? সবাই মিলে ভাগেযোগে লুটেপুটে খাক।