দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে সোমবারই দীর্ঘ সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নবান্ন থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে জানিয়েছিলেন আলোচনার জন্য সময় চাইবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর। মঙ্গলবারই রাজনাথের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন সন্ধ্যে ছ’টায় বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
জাতীয় পঞ্জিকরণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে বাংলা। কালকেই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, পঞ্জিকরণের কাজ চলাকালীন তাঁর বা রাজ্যের মুখ্য সচিবের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি কেন্দ্র। প্রশাসনের আশঙ্কা, নাগরিক পঞ্জিকায় নাম না থাকা মানুষদের উৎখাত করা শুরু করলে আশ্রয়ের খোঁজে তাঁরা ঢুকে পড়তে পারেন বাংলায়। অসম লাগোয়া উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সমস্যা হতে পারে আইন-শৃঙ্খলারও। শুধু তাই নয়, এত মানুষের খাওয়া-পরার ভার নিতে হলে রাজ্যের কোষাগারেও চাপ পড়বে। যেহেতু, দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এই পঞ্জিকরণের কাজ হচ্ছে তাই কেন্দ্রীয় সরকারও সাহায্য করবে না বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অসমের এই পরিস্থিতিতে বাংলার শাসক দল রাজনৈতিক জাঁতাকলে পড়েছে। খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই তাঁদের আশ্রয় দেওয়া যেমন সমস্যার, তেমনই আশ্রয় দেব না সে কথাও স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। গতকাল মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয় ওঁরা আশ্রয় চাইলে কি বাংলা তা দেবে? জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁরা ভিটে-মাটি ছাড়তে চাইবেন কেন? ওখানে ওঁরা কেউ পঞ্চাশ বছর ধরে রয়েছেন, তো কেউ একশো বছর ধরে রয়েছেন। ব্যবসা আছে, বাড়ি আছে। তার পরেও কেউ এলে ভেবে দেখব।”
সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সংসদীয় দল যাবে অসমে। তিনিও অসম যেতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। প্রথমে ঠিক হয় পয়লা অগস্ট অসমে পরিস্থিতি দেখতে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দল। পরে ঘোষণা করা হয় ২ এবং ৩ অগস্ট অসমের বিভিন্ন এলাকায় যাবে এই দল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে এই প্রতিনিধি দলে থাকবেন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রত্না দে নাগ, নাদিমুল হক, অর্পিতা ঘোষ এবং রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।