
শেষ আপডেট: 23 March 2022 16:13
রফিকুল জামাদার ও শোভন চক্রবর্তী
রামপুরহাট কাণ্ডে যখন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে তখন সামগ্রিক ভাবে পুলিশ বাহিনীর পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা (Mamata) বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নেতাজি ইনডোরের সরকারি কর্মসূচি থেকে মমতা (Mamata) বলেন, “পুলিশের একজন-দু'জন খারাপ হতে পারেন। সবাই নন।”
আনিস খানের মৃত্যু থেকে বগটুই—গত এক মাসে বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। সমালোচনার ঝড় বয়েছে রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোথাও সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, তো কোথাও পুলিশের বিরুদ্ধে হিংসায় ইন্ধনের অভিযোগ উঠছে। আর বিরোধীরা বার বার বলেছে, বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। পুলিশ দিয়ে দল ও রাজ্য চালাচ্ছেন মমতা (Mamata) বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে সার্বিক এক অনাস্থার পরিবেশ তৈরির উপক্রম হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ হেন পরিস্থিতিতে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বাহিনীর মনোবল টানটান রাখতেই এদিন মমতা এই মন্তব্য মমতা (Mamata) করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী এদিন বলেন, “একটা পুলিশ যদি একটু দোষ করে ফেলে, তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হচ্ছে। তা বলে সবাই খারাপ? আপনি রাস্তা দিয়ে যাবেন, পুলিশরা দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়। আপনি রাতে ঘুমোবেন পুলিশ যতটা পারে পাহারা দেয়। রাতে ট্রাক যাবে ওরা পাহারা দেয়। এত উৎসব হবে, দুর্গা পুজো হবে, ইদ হবে, বড়দিন হবে, দোল হবে—ওরাই তো আমাদের সঙ্গে থাকে”। মমতার কথায়, “এক জন দু'জন ভুল করতেই পারে। হাতের সব আঙুল কি সমান হয়? কড়ে আঙুলটা একটু ছোট হয়। বুড়ো আঙুলটা একটু মোটা হয়। যদি কেউ দোষী হয় আমরা ব্যবস্থা নিই, এটা আমাদের কর্তব্য"।
তা ছাড়া নেতাজি ইনডোরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘রামপুরহাটের ঘটনার পর ওসি-এসডিপিওকে সরিয়ে দিয়েছি। সিট গঠন করেছি। পুলিশের ডিজি সেখানে পড়ে আছেন। আগামী কাল আমি যাব"। সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে যেমন তিনি পদক্ষেপ করেছেন তেমনই দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা নিয়ে সেখানে প্রাণপাত পরিশ্রম করছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান অবশ্য বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব বলে আসলে পুলিশকে তোয়াজ করতে চাইছেন। কারণ, উনিও জানেন তৃণমূলের যা রমরমা সব পুলিশের জোরেই। পুলিশ যদি শাসকদলের পাশ থেকে সরে যায় তাহলে তৃণমূল পার্টিটা চৈত্র সেলে চলে যাবে”। আবার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সেই সব পুলিশের পাশে দাঁড়ান, যাঁরা ওঁর আজ্ঞাবহ। যেমন রাজীব কুমারকে বাঁচাতে তিনি ধর্নায় বসেছিলেন। যেমন, হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার সৌম্য রায়। তৃণমূল বিধায়ক লাভলির মৈত্রর স্বামী সৌম্য রায় আনিসের ঘটনার পরে বলেছিলেন ওখানে পুলিশ যায়নি। কিন্তু পুলিশই যে মেরেছে আনিসকে তা স্পষ্ট। এর পরেও সৌম্য রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বলির পাঁঠা করা হয়েছে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের। আর তাহেরপুরে যেই বামফ্রন্ট জিতল, পুলিশ তৃণমূলের মাথায় হাত রাখল না, ওমনি ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হল!”
চুম্বকে, অনেক দিন পর রাজ্য রাজনীতির বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে পুলিশ। এবং সেই পরিস্থিতিতে বাহিনী মনোবল শক্ত রাখতে পাশেই থাকলেন পুলিশ মন্ত্রী।
আরও পড়ুন : বগটুইয়ে এই সেই ভাদু শেখের মহল, কুঁড়ে ঘর থেকে রাতারাতি বহুতলের মালিক তৃণমূল নেতা