রফিকুল জামাদার: বাংলার সন্তান যেন থাকে ইলিশ-ভাতে।
এমনটাই চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ইলিশের জোগানে যেন কোনও ঘাটতি না হয়, ইলিশপ্রিয় বাঙালির যেন কোনও আক্ষেপ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বর্ষা আসার আগেই এ বিষয়ে কয়েকটি জরুরি নির্দেশ দিলেন তিনি।
বুধবার নবান্নে মাছ-মন্ত্রী ও অন্য আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ইলিশের জোগান নিয়ে সমস্যা হয়। রাজ্যবাসীর পকেটে বিপুল টান পড়ে ভাতের পাতে ইলিশ রাখতে। জামাইষষ্ঠীর মতো পারিবারিক উদযাপনে ইলিশের বন্দোবস্ত করতে নাভিশ্বাস ওঠে মধ্যবিত্ত শ্বশুরবাড়ির। এই ছবিরই বদল চান তিনি।
তাঁর নির্দেশ, বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত ইলিশের আমদানি যে করে হোক নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রী-আমলাদের সাধ্যে না কুলোলে তাঁরা যেন জানিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই এ বিষয়ে তদারকি করবেন। নবান্ন সূত্রের খবর, সম্প্রতি তাজ বেঙ্গল হোটেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে মমতা ইলিশ আমদানি নিয়েও কথা বলে রেখেছেন।
এ ছাড়াও তিনি সতর্ক করেন, ইলিশের মরসুমে মোহনায় জাল ফেলে বেআইনি ভাবে মাছ ধরা যাবে না। এর ফলে বহু ছোট মাছ পরিণত আয়তনে পৌঁছনোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কমে যায় বড় ইলিশের সংখ্যা।
এর পাশাপাশি মমতা হুঁশিয়ারি দেন, ইলিশের মরসুম পড়তেই মাছ ব্যবসায়ী ও কেটারিংয়ের বড় ব্যবসায়ীরা যেন বড় মাছ আগাম মজুত না করেন। এই মজুতদারির জন্যও সাধারণ মানুষের পাতে টান পড়ে ইলিশের জোগানে।