দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানে এসে পুলিশের মারে আহত বাঁকুড়ার কোতলপুরের ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যু হয়েছে সোমবার সকালে। তারপর রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, “সিপিএম নবান্ন অভিযানটাই করেছিল মার খাওয়ানো বা মার খাওয়ার জন্য। ওরা জানত রাস্তায় নেমে আইন ভাঙলে, পুলিশের উদ্দেশে ঢিল ছুড়লে পাল্টা মার খাবে। সেটার জন্যই ওরা পরিকল্পনা করে এগিয়েছিল।”
বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে বাম যুব নেতার মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। কী ভাবে মারা গেছে তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। যদি পরিবার চায় তাহলে আমরা (পড়ুন রাজ্য সরকার) একজনকে চাকরি দেব।”
মৃত বাম যুবকর্মীর স্ত্রী আলেয়া বিবি সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, “মমতার পুলিশই আমার স্বামীকে খুন করেছে।” এদিন মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন মমতা। সুজনবাবুও বলেন, “হ্যাঁ, মুখ্যমন্ত্রী আমায় সকালে ফোন করেছিলেন।”
২০১৩ সালের ২ এপ্রিল ছাত্র সংসদ ভোটের দাবিতে কলকাতায় আইন অমান্য করেছিল একাধিক বাম ছাত্র সংগঠন। তাতে এসএফআইয়ের তরুণ নেতা সুদীপ্ত গুপ্তর মৃত্যু হয়। বামেদের অভিযোগ ছিল, পুলিশি হেফাজতেই পিটিয়ে মারা হয়েছে সুদীপ্তকে। ওই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “স্মল ম্যাটার, পেটি ম্যাটার।” তা ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল।
যদিও পরে সুদীপ্ত গুপ্তর দিদিকে চাকরি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বাঁকুড়ার বাম যুবকর্মী অটো চালাতেন। পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনশীল ছিলেন। দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যেই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পরিকল্পনা শুরু করেছে বাম সংগঠনগুলি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই চাকরি দেওয়ার কথা শুনে এক সিপিএম নেতা বলেন, “একটা মানুষকে পিটিয়ে মেরে তার পরিবারকে চাকরি দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর থেকে লজ্জাজনক আর কিছু হয় না।”