
শেষ আপডেট: 3 August 2023 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কলকাতা: রাজ্যের অর্থ সংকট তীব্র। তাও সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখতে লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকার ইমাম ভাতা বাড়াতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠক করেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেখানে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বুঝে গিয়েছেন, সংখ্যালঘু ভোট তাঁর সঙ্গে নেই। প্রথমে বালিগঞ্জ কিছুটা বুঝিয়েছিল। সাঘরদিঘিতে চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙড়ের মানুষ ভোট দিতে পারলে তারাও বুঝিয়ে দিত”। শুভেন্দুর কথায়, “ওখানকার বীর আরাবুলকেও হারতে হয়েছে। তাই বিভিন্নভাবে সংখ্যালঘুদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে। মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।”
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই কথার জবাবও দিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সংখ্যালঘুদের জন্য সাধ্যমতো করেছেন। শুধু সংখ্যালঘু কেন, জনজাতি, আদিবাসী, মতুয়া—সবার সামাজিক সুরক্ষার চেষ্টা করেছে সরকার। শুভেন্দুরা সেই কারণেই জমি পাচ্ছে না। ওদের এই হাহাকার দেখতে ভালই লাগছে।”
শুভেন্দু এদিন আরও বলেছেন, “২১ তারিখ শুনলাম নেতাজি ইন্ডোরে ইমাম, মোয়াজ্জেমদের নিয়ে মিটিং ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মিটিংয়ের আগে টাউন হলে ববি হাকিম, জাভেদ খান, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীরা মিটিং করেছেন। সেখানে সিদ্দিকুল্লা বলেছেন, তাঁর সংগঠন জমিয়েত উলেমা হিন্দের লোক এনে নেতাজি ইন্ডোর ভরিয়ে দেবেন। আবার ববি নাকি বলেছেন, আমি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেব। ওই মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে কেউ যেন ইমাম ভাতা বা মোয়াজ্জেম ভাতা বাড়াতে না বলেন।”
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে ‘আন প্রেডিক্টেবল’ বলে মন্তব্য করে শুভেন্দু বলেন, ওই অনুষ্ঠানেই হয়তো ইমাম, মোয়াজ্জেমদের ভাতা ৫০০ কিংবা হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতার দাবি, “ভোট বড় বালাই! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন , সংখ্যালঘুরা আর তৃণমূলকে ভোট দেবেন না। তাই নানারকম মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।”
শুধু ইমাম ভাতা নয়, রাজ্যে সংখ্যালঘুদের পবিত্র স্থানগুলোর সংস্কারেও সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ফুরফুরা শরীফের উন্নয়নের জন্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদ থেকে ৫৮ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪৯২ টাকা বরাদ্দ করেছে। ফুরফুরার উন্নয়ন পরিষদের জন্য কোনও অফিস অবশ্য পাওয়া যায়নি এখনও। শরীফের গেটের পাশে জমি রয়েছে। সেখানেই অফিস, মুসাফিরখান হবে। এখন অফিস চলছে শ্রীরামপুর এসডিও অফিস থেকে।
আরও পড়ুন: ফের হাসপাতাল বদলাতে চান কালীঘাটের কাকু, মামলা খারিজের হুঁশিয়ারি বিচারপতির