দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই কাটমানি প্রশ্নে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। সরকারি প্রকল্প থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে বল্গাহীন কাটমানি নেওয়া চলছে সে ব্যাপারে অভিযোগ করেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা।
কিন্তু তিনি সেই অভিযোগ করতেই, শাসক দলের বিধায়করা যেমন রে রে করে ওঠেন, তেমনই বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “আপনি যে অভিযোগ করছেন, তার প্রমাণ দিতে পারবেন? নইলে বিধানসভার রেকর্ড থেকে কিন্তু বাদ যাবে”।
স্পিকারের এই কথায় যেন ফুলটস বল পেয়ে যান বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “আমার সাক্ষী মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তিনিই বলেছেন, সরকারি প্রকল্প থেকে তৃণমূলের নেতারা কাটমানি নিচ্ছেন। তিনিই বলেছেন, কারা চুরি করছেন তিনি জানেন।”
পরে বিধানসভার বাইরে মান্নান সাহেব আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীই তাঁর দলকে বলেছেন, ২৫ শতাংশ নিজে রাখতে বাকি ৭৫ শতাংশ দলকে দিতে। তিনিই সবার সামনে বলছেন, কারা কারা টাকা তুলেছে তিনি জানেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই হলেন পুলিশ মন্ত্রী। তিনি যখন প্রকাশ্যে এ কথা বলছেন, তখন এর থেকে বড় প্রমাণের কি আর প্রয়োজন রয়েছে?
কাটমানি নেওয়া বন্ধ করতে ও দোষীদের শাস্তি দিতে একটি কমিশন গঠনের জন্যও এ দিন দাবি জানান বিরোধী দলনেতা। তবে তাঁর সেই দাবি খারিজ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও কমিশন গঠন করা হবে না। কারও কোনও অভিযোগ থাকলে লোকায়ুক্ত-র কাছে যেতে পারেন।
এরই পাশাপাশি মমতা এ দিন বিধানসভায় বলেন, "কাটমানি নিয়ে দলের মিটিংয়ে আমি কিছু কথা বলেছিলাম। তা এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যম ও বিরোধী দলগুলি বিকৃত করছে। সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ার কথা আমি বলিনি।"
তাঁর কথায়, "আর্থিক দুর্নীতি বন্ধ করতে একটি মনিটরিং সেল তৈরি করা হয়েছে। ১০ জুন থেকে ওই মনিটরিং সেল কাজ করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ৫৯৩১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
এই প্রসঙ্গ থেকে এ দিন আবার সারদা-রোজভ্যালি প্রসঙ্গে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিবিআই-ইডির কাছে তৃণমূলের দাবি— চিটফান্ডের টাকা ফেরত দিন। গরিব মানুষের টাকা ফেরত দিতে হবে আপনাদের।