
শেষ আপডেট: 16 June 2023 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীরা যখন পঞ্চায়েতের মনোনয়ন পর্বে হিংসা, সন্ত্রাস নিয়ে শাসকদলকে বিঁধছে তখন শুক্রবার কাকদ্বীপের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, অতীতে কখনও বিরোধীরা এত সংখ্যায় মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। তাঁর সরকার এবং দল গণতন্ত্রে আস্থাশীল বলেই আজকে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ মিলিয়ে দেড় লক্ষ মনোনয়ন জমা দিয়েছে।
এদিন নবজোয়ার কর্মসূচির সমাপ্তি সমাবেশে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘এত মনোনয়ন এর আগে কবে হয়েছে বাংলায়? ২০০৩-এর পঞ্চায়েতে সিপিএম কী করেছিল, ’৯৮-এর পঞ্চায়েতে কী করেছিল? মানুষ কি ভুলে গেছে?’
শুধু তাই নয়। মমতা এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে দেখাতে চান, বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমি যা তথ্য পেয়েছি তাতে দু’লক্ষ ৩১ হাজার মনোনয়ন জমা পড়েছে। তারমধ্যে বিরধীদের মনোনয়ন সংখ্যাই দেড় লক্ষ। আর তৃণমূল ৮১ হাজার।’
সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষের সুরে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘বাড়িতে ভাত দিয়েছি, এখন বলছে খাইয়ে দাও, মাংস দাও, ইলিশ মাছ দাও!’
বাংলায় মনোনয়ন পর্বে হিংসা, অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। মমতা এদিন তাকে বিক্ষিপ্ত এবং সার্বিক পরিস্থিতির তুলনায় কিছুই নয়ে বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘৬১ হাজার বুথ রয়েছে। দু’টো জায়গায় গন্ডগোল হয়েছে। সেটাকে নিয়েই এমন করছে যেন কী না কী হয়ে গেল।’
পঞ্চায়েত ভোটে সারা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘মণিপুরেও তো কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গেছে। কী করেছে? ওখানে মন্ত্রীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে জাতি দাঙ্গায় অশান্ত মণিপুর। বিজেপি শাসিত রাজ্যটিতে আগুন নিভছেই না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গিয়ে বৈঠক করেছিলেন, চেষ্টা করেছিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মাও। কিন্তু লাভের লাভ কিচ্ছু হয়নি। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আরকে রঞ্জন সিংয়ের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় জনতা। অনেকের মতে, তৃণমূলনেত্রী বোঝাতে চান, যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মণিপুরে কিছু করতে পারছে না তাদের ভরসায় বাংলায় ভোট করানোর অর্থ কী?
পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় বাহিনী: হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য ও কমিশন