
শেষ আপডেট: 18 March 2023 09:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার কালীঘাটের বৈঠকে ববি হাকিমকে (Bobby Hakim) কড়া ভাষায় ধমকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দিদি পষ্টাপষ্টি বলে দিয়েছেন, “তুই বাড়তি কথা বলছিস। সব বিষয়ে তোকে কথা বলতে হবে না। শুধু পুরসভা নিয়ে বলবি। তার বাইরে কিছু নিয়ে বলতে হলে আমার থেকে জেনে নিবি”।
অনেকের মতে, দিদি ববির মুখে একপ্রকার বেড়ি পরিয়ে দিয়েছেন। সিপিএম নেতারা আবার কটাক্ষ করে বলছেন, ক্ষমতায় এসে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে রাখতে হবে। এখন নিজের দলের নেতার মুখেই তাঁকে লিউকোপ্লাস্ট লাগাতে হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হল, দিদি কেন এত রেগে গেলেন ববির উপর? হালফিলে কী এমন বলেছিলেন কলকাতার মেয়র?
সম্প্রতি ডিএ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ববির দু’টি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। এক, তিনি বলেছিলেন, ‘না পোষালে ছেড়ে দিন। কেন্দ্রের হারে ডিএ পেতে হলে রাজ্যের চাকরি ছেড়ে কেন্দ্রের চাকরি করুন।’ এবং দুই, দিনের পর দিন অনশনের পর যখন আন্দোলনকারীরা অসুস্থ হচ্ছেন তখন তাঁদের উদ্দেশে ববির মন্তব্য ছিল, ‘আন্দোলনের নামে নাটক হচ্ছে।’
অনেকের মতে, ডিএ আন্দোলনকারীদের বিষয় নিয়ে মমতা নিজে স্পর্শকাতর হয়েই কথা বলছেন। এক, তিনি বাজেটের দিন অতিরিক্ত ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছেন। সেইসঙ্গে বারবার বোঝাতে চেয়েছেন, যে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে রাজ্য যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে এর চেয়ে বেশি তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা এও বলেছিলেন, ‘আপনারা আমার মুন্ডুটা কেটে নিতে পারেন কিন্তু আমার থেকে আর পাবেন না।’ সেই প্রেক্ষাপটে ববির কথা অনেকের কানেই কড়া ঠেকেছে। ববির ওই ধরনের মন্তব্য ১০ মার্চের ধর্মঘটের মেজাজে অক্সিজেন দিয়েছিল বলেই মত অনেকের।
ইদ্রিস-আখরু ট্রেনে যেতে যেতে বলছিলেন তৃণমূল হারবে, বেজায় ধমক মমতার
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথা বলতে পারেন ববির থেকে সেকথা লোকে গ্রহণ করবেন না। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। ডিএ নিয়ে কড়া ডোজের কথা বলে ববি হয়তো ভেবেছিলেন নম্বর বাড়বে, কিন্তু হল উল্টোটা।
সম্প্রতি আরও একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় হয়েছে। তা হল কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচীর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে ববির মন্তব্য। ওই গ্রেফতারিকে ‘ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কুণাল ঘোষ। পাল্টা ববি বলেন, পুলিশ যা করেছে ঠিকই করেছে। দুই নেতার দু’রকম বক্তব্যকে হাতিয়ার করেছিল কংগ্রেস, সিপিএম।
ইদানীং সব বিষয়েই সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেন ববি। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা—কোনও কিছু বাদ থাকে না। ববির মুখের সামনে বুম ধরা মানেই একটা কিছু আসবে। অনেকে বলেন, পারলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বাইডেন-জেলেনেস্কি সম্পর্ক নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিয়ে দেবেন ববি।
কিন্তু দিদি কাল ববির কথা বলায় লক্ষ্মণরেখা টেনে দিয়েছেন। পুরসভা বাদ দিয়ে আর কিচ্ছু না। দেখা গেল শনিবার সেই মতোই চললেন ববি। সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে মেয়র জবাব দিয়েছেন, ‘অনলি কর্পোরেশন!’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার কি মুখ বন্ধ করে দেওয়া হল? জবাবে তিনি বলেন, ‘তা নয়। দলের একটা শৃঙ্খলা আছে। আর মিডিয়ায় অন্যান্য বিষয় বলার জন্য মুখপাত্ররা আছেন। আমরা কেন বলব?’
মুকুল রায়কে হাসপাতালে দেখতে তৃণমূলের কেউ যায়নি, বিজেপির কি কেউ গেল?