
শেষ আপডেট: 9 August 2023 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় কথায় আর অবরোধ হয় না জঙ্গলমহলে। বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে না তল্লাটের বাতাস। নিত্যদিন প্রিয়জন হারানোর আতঙ্ক এখন আর নেই। ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর। পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতৃত্বে অবরুদ্ধ হয়ে উঠেছিল জঙ্গলমহল (jangalmahal)। আন্দোলনের রাশ যায় মাওবাদীদের হাতে। পালা বদলের বাংলায় ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জামবনির বুড়িশোলের জঙ্গলে যৌথবাহিনীর এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় মাওবাদী নেতা মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির। ধীরে ধীরে শান্তি ফিরেছে বোমা-গুলির আতঙ্কে একসময় অভ্যস্ত হয়ে ওঠা জঙ্গলমহলে।

কীভাবে শান্তি ফিরিয়েছেন তাঁর ব্যাখ্যাও এদিন সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের জমানায় জঙ্গলমহলের উন্নয়নের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে ঝাড়গ্রামে আসতাম, রাস্তায় গর্তের পর গর্ত। আর এখন দেখুন ঝকঝকে রাস্তা। ঝাড়গ্রাম থেকে বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি, কত সহজে পৌঁছে যাওয়া যায়।
আজ বুধবার বিশ্ব জনজাতি দিবস (world indigenous day)। জঙ্গলমহলে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে জনজাতি উৎসব। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলেই ঝাড়গ্রামে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ভোটের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই জঙ্গলমহল সফর ঘিরে কৌতূহল ছিল রাজনৈতিক মহলের। সেখানেই জনজাতির মহিলাদের মতো করে শাড়ি পরে ধামসা মাদলের তালে তাঁদের সঙ্গে পা মেলান মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ এনে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, "দেশে এমন একটা সরকার চলছে যারা ১০০ দিনের প্রকল্পে রাজ্যের বকেয়া ৭ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে না। কাজও বন্ধ করে দিয়েছে। যাতে এখানকার গরিব মানুষেরা ভাতে মারা যায়। কিন্তু বিজেপি জানে না এখানে গরিব লোকেদের আমরা বিনামূল্যে চাল থেকে পাঠ্যবই, সবই দিয়ে থাকি।"
মনে করিয়েছেন, ইংরেজদের ভারত ছাড়া করেছিলাম স্বাধীনতার জন্য। বিজেপিতে দিল্লির গদি ছাড়া করতে হবে দেশের উন্নয়নের জন্য। উত্তরপ্রদেশ থেকে মধ্যপ্রদেশ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিতদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ আমি ভাষাগুলো বলতে চাই না। আমরা বাথরুমে যেগুলো করি, সেসব করা হচ্ছে। এনকাউন্টারে মারছে। মণিপুর জ্বলছে। জাতিদাঙ্গা লাগিয়ে ওরা ভাবছে দেশটাকে টুকরো টুকরো করে দেবে।”
বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসকে ‘জগাই-মাধাই-গদাই’ সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, "অনেকেই চান না জঙ্গলমহলের শান্তি বজায় থাক।" এবিষয়ে এলাকার মানুষকে সজাগ থাকার বার্তাও দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেকারণেই অশান্ত জঙ্গলমহলের কথা এদিন তিনি মনে করিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
রাহুলের 'ফ্লাইং কিস' সংসদে! 'নারীবিদ্বেষী' বলে আক্রমণ স্মৃতির, স্পিকারের কাছেও গেল নালিশ