
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 April 2024 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহ বলতেই রাজনৈতিক মানচিত্রে উঠে আসে কংগ্রেসের প্রবাদপ্রতিম নেতা প্রয়াত বরকত গনিখান চৌধুরীর নাম। শনিবার মালদহ দক্ষিণের সুজাপুরে সভা থেকে সেই বরকত সাহেবের নাম নিয়েই কংগ্রেস-বিজেপি-সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মালদহবাসীকে সতর্ক করে মমতা বলেন, "বাংলায় বিজেপির দুটো চোখ, একটা সিপিএম আরেকটা কংগ্রেস!"
নিজের বক্তব্য়ের সপক্ষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি তো বরাবরই কংগ্রেসকে সাহায্য করতে চেয়েছি। বিধানসভায় ওদের একটাও আসন নেই। তবু লোকসভায় দু'টো আসন দিতে চেয়েছিলাম। ওরা নিল না, সিপিএমের হাত ধরল। আপনারা চান, বাংলায় আমি সিপিএমের কাছে আত্মসমপর্ণ করি?"
ভিড় থেকে সমস্বরে আওয়াজ ওঠে, "না"।
বর্তমানে মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু বরকত আতাউর গনি খান চৌধুরীর ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালুবাবু)। ২০০৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রে জিতে আসছেন তিনি। এবারে এখানে তৃণমূল প্রার্থী করেছে শাহনওয়াজ় আলি রেইহানকে।
মমতা বলেন, "মনে রাখবেন, মালদহ লোকসভা কিন্তু আগে কখনও তৃণমূল পায়নি। একুশের বিধানসভায় আপনারা আমাদের ঢেলে ভোট দিয়েছিলেন বলে বিজেপিকে আটকাতে পেরেছিলাম, তাহলে এবারেও নয় কেন?"
মমতার কথায়, "বরকতদাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তিনি যতদিন ছিলেন আপনারা কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু এখনও কেন বার বার ওদেরই ভোট দেবেন? মৌসম বেনজির নূরকে তো আমরাই জিতিয়েছিলাম। কিন্তু লোকসভায় গিয়ে যে চুপ করে বসে থাকে, মানুষের কথা বলে না, তাঁকে কেন প্রার্থী করব? মহুয়া মৈত্রকে দেখুন। সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলতো বলে ওকে তাড়িয়ে দিয়েছে।"
২০২১ সালে সুজাপুর থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের মহম্মদ আব্দুল গনি। যদিও ভোটে জেতার পর থেকে তাঁকে নিয়ে মানুষের মধ্যে বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে। এদিন বক্তব্যের শুরুতেই সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, ভুল ত্রুটি যদি কেউ করে তাতে দলের অভিমান হলে মানুষের কাছে ভুল স্বীকার করা উচিত। আপনারা বিধানসভায় গণি সাহেবকে জিতিয়েছিলেন। মালদহকে মর্য়াদা দিয়ে তাঁকে ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান করি। তিনি এলাকায় আসতে সময় পান না। তাই এখন থেকে এখানটা আমি নিজে দেখব।"
মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর নজরেব সবটাই থাকে। তাই কেউ ভোটে জিতে এলাকায় অবহেলা করলে সেটাও তাঁর নজর এড়ায় না। মনে করিয়েছেন, "বাম আমলে রাজ্যের সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত ছিল। রাজ্য বাজেটে সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ করা হত চারশো কোটি টাকা, এখন সেখানে বরাদ্দের পরিমাণ সাড়ে চার হাজার কোটি!"