
শেষ আপডেট: 11 September 2023 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্র বা রাজ্য মন্ত্রিসভায় কোনও ‘নাম্বার টু’ হয় না। উপ প্রধানমন্ত্রী বা উপ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করার বর্তমান ও চলতি দৃষ্টান্ত রয়েছে ঠিকই। কিন্তু সংবিধানে উপ প্রধানমন্ত্রী বা উপ মুখ্যমন্ত্রী পদের কথা বলা নেই বা তাঁর কাজের পরিধির ব্যাখ্যা নেই। মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ওজন বোঝাতে এই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়। যেমন অটলবিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় উপ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। আবার অতীতে এও দেখা গিয়েছে, সরকারি ভাবে ‘নাম্বার টু’ পদ না থাকলেও মনমোহন মন্ত্রিসভায় অকথিত ভাবে সেই মর্যাদা পেতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। মনমোহন বিদেশ সফরে গেলে ঘরোয়া বিষয়আশয়ের উপর সেই কদিন নজর রাখতেন প্রণব।
কিন্তু স্পেন সফরে রওনা হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সোমবার স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর মন্ত্রিসভায় কোনও নাম্বার টু নেই। সাংবিধানিক ভাবে তিনি ১ নম্বর। সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অগ্রাধিকার তাঁরই রয়েছে। তিনি ছাড়া মন্ত্রিসভায় (Mamata Banerjee Cabinate) যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মর্যাদা সমান। কারও কম কারও বেশি নয়।
মুখ্যমন্ত্রী জবাবে বলেন, “না সেরকম কিছু হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র সচিব গোপালিকা প্রশাসনের সমস্ত ব্যাপার দেখবেন। আর মন্ত্রীরা মিলে মিশে সবাই সবারটা দেখবেন।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, সবাই সবারটা দেখার অর্থ হল, কারও পৃথক ভাবে অতিরিক্ত মর্যাদা নেই। রাজ্য মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ আরও ৪১ জন মন্ত্রী রয়েছেন। তাঁরা সবাই সমান। প্রসঙ্গত, এর আগে একবার বিদেশ সফরে যাওয়ার সময়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের নিয়ে একটা মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেটাও করলেন না।
নবান্নের এক প্রবীণ আমলার কথায়, আসলে নাম্বার টু ধারণাটা পুরনো। এক সময়ে যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিল না, তখন প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলে কোনও একজন বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে যেতেন। কিন্তু এখন ভার্চুয়াল ব্যবস্থা এতই স্ট্রং যে মুখ্যমন্ত্রী স্পেনে থাকুন বা দুবাইয়ে—কোনও ফারাক পড়ে না। রিয়েল টাইমে সব খোঁজখবর পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই অভিষেককে হেনস্থা করা হচ্ছে, গণতন্ত্রে এটা হয় না: মমতা