
উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 29 September 2024 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বন্যাত্রাণের কাজে মানুষের পাশেই থাকতে হবে। পুজো বলে কোনওভাবে সরে গেলে চলবে না।’ রবিবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বারবার সবাইকে বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার আর্জি জানিয়ে বলেন, “এটাও একটা সেবা। একদিকে দুর্গাপুজো, অন্যদিকে ডিভিসি জল ছাড়ার কারণে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি। এই সময় বন্যার্ত মানুষদের কোনওভাবেই ভুললে চলবে না।”
রবিবার বিকেলে শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গে পৌঁছে উত্তরের জেলাগুলির সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বা রাজ্যবাসীকে বাঁচাতে ঠিক কী পদক্ষেপ করা উচিত এদিন তা স্পষ্ট করে দেন।
বন্যার কারণে চাষবাসেরও চরম ক্ষতি হয়েছে। সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেই এদিন মমতা বলেন, “শস্য বিমার জন্য প্রতি বছর ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা থাকে। কিন্তু এবার সেপ্টেম্বেরের শেষ সপ্তাহে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেকারণে, শস্য বিমার আবেদনের সময়সীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, কৃষকদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। বৃষ্টি থেমে গেলেই শস্য বিমার আওতায় যারা রয়েছেন তাঁদের টাকা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবারই শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এদিন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বিধান মার্কেটে ৬টি দোকান পুড়ে গেছে। আমি গৌতম দেবকে দায়িত্ব দিয়েছি ৬টা দোকান তৈরি করে দিতে। পুজোর মুখে যেহেতু দোকানগুলি পুড়ে গেছে সেকারণে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানকে দেওয়া হবে।”
জলপাইগুড়ির গাজলডোবায় হুকিং করতে গিয়ে শনিবারই মর্মান্তিক পরিণতি হয় একই পরিবারের চার জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে চার বছরের এক শিশুও। সেই প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সবাইকে অনুরোধ করব বর্ষার সময় নতুন করে তার টানবেন না। ঘটনাটা খুব মর্মস্পর্শী কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে যায়।”
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার দুপুরেই উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকেই নিশানা করেছিলেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, “কেন্দ্রের কথায় ডিভিসি লাগাতার জল ছেড়ে বাংলাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অথচ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যকে এক পয়সাও দেয় না কেন্দ্র”।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, “পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ কষ্টে আছে। আমরা যথাসম্ভব সকলের ত্রাণের ব্যবস্থা করেছি। মমতা মনে করিয়ে দেন, "নির্বাচনের সময় বাংলায় এসে বড় কথা বললেও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাকে এক টাকাও দেয় না কেন্দ্র।”