বড়মার চেয়ারে আপাতত মমতাবালাই, মানছেন না শান্তনু
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণিদেবীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন ঘুরছিল মতুয়া সমাজের মধ্যে। বড়মার চেয়ারে বসবেন কে? কে হবেন পরবর্তী সঙ্ঘাধিপতি?বৃহস্পতিবার বিকেলে বীণাপাণিদেবীর অন্ত্যেষ্টির পর মতুয়া মহাসঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে, আপা
শেষ আপডেট: 6 March 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণিদেবীর মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন ঘুরছিল মতুয়া সমাজের মধ্যে। বড়মার চেয়ারে বসবেন কে?
কে হবেন পরবর্তী সঙ্ঘাধিপতি?
বৃহস্পতিবার বিকেলে বীণাপাণিদেবীর অন্ত্যেষ্টির পর মতুয়া মহাসঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে,
আপাতত কিছু দিন সঙ্ঘাধিপতি ও উপদেষ্টার যৌথ দায়িত্ব সামলাবেন বড়মার পুত্রবধূ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। সঙ্ঘের তরফে অন্যতম মুখপাত্র নন্দদুলাল মোহন্ত জানিয়েছেন, “
বড়মার পারলৌকিক কাজ মিটে যাওয়ার পর সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের কার্যনির্বাহী কমিটি বসে পরবর্তী স্থায়ী সঙ্ঘাধিপতি ঠিক করবে। ততদিন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে এই দায়িত্ব সামলাবেন মমতাবালা ঠাকুর।”
যদিও এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন প্রয়াত বড়মার নাতি শান্তনু ঠাকুর। মমতাবালাকে অস্থায়ী সঙ্ঘাধিপতি করার পর তাই চাপা উত্তেজনা ঠাকুরবাড়িতে। ইতিমধ্যেই শান্তনু জানিয়েছেন, “
মতুয়া মহাসঙ্ঘের নিয়মানুযায়ী ঠাকুর বংশের কোনও বংশধরই সেই দায়িত্ব পাবেন।” তিনি স্পষ্ট বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরই এক এবং একমাত্র উত্তরাধিকারী। তাই নন্দদুলালদের ঘোষণা মেনে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। কারণ, তৃণমূল প্রভাব খাটিয়ে ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিয়েছে।
এ দিন বড়মা-র অন্ত্যেষ্টিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। পরে মুকুলবাবু বলেন, বড়মা-র চিকিৎসা বরাবর বেলভিউ নার্সিংহোমে হত। তাঁর দেখভাল করতেন তৎকালীন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এ বার তাঁকে কেন কল্যাণী হাসপাতালে ও তার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। কেন অবহেলা হল তাঁর চিকিৎসা নিয়ে সেই প্রশ্নও এখন উঠছে।
বস্তুত, মতুয়া সমাজ চিরকালই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলায় এমন কিছু বিধানসভা এবং লোকসভা আসন রয়েছে যেগুলি নিয়ন্ত্রিত হয় মতুয়া ভোটে। এ বার সেই মতুয়া সমাজকে কৌশলে পাশে পেতে সচেষ্ট বিজেপি। এ ব্যাপারে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের হাত ধরেছে তারা। এবং ঠাকুর বাড়ির এই দুই উত্তরাধিকারীই এখন মৌলিক একটি প্রশ্ন তুলে দিতে চাইছেন মতুয়া সমাজের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, ঠাকুরবাড়ি সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ঠাকুরবাড়ির কোনও সদস্য কেন ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্খা পূরণে সরাসরি রাজনীতিতে নামবেন?
কেন ভোটের প্রার্থী হবেন?
শান্তনু ঠাকুরের কথায়, “
মতুয়া সমাজের লোকজন রাজনীতি করতেই পারেন। কিন্তু কেউ প্রার্থী হোক আমি চাই না।”
অনেকের মতে, এ কথা বলে মমতাবালা ঠাকুরকে কোণঠাসা করতে চাইছেন শান্তনুরা। তাঁদের বক্তব্য, ঠাকুরবাড়িকে তৃণমূলের রাজনৈতিক মূলধনে পরিণত করেছেন মমতাবালা। যা অভিপ্রেত নয়। বস্তুত মমতাবালাদের সঙ্গে তাঁর ও মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের অবস্থানের ফারাক তুলে ধরার কারণেই সম্প্রতি ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় বিজেপি-র কোনও পতাকা ব্যবহার করা হয়নি। ওই সভাকে বলা হয়েছিল, ধর্ম সম্মেলন।
এ দিকে বড়মা চোখ বোজার পর ঠাকুরবাড়ির ভিতর এখন আকচাআকচি চরম আকার নিয়েছে। বড়মার পুত্রবধূ তথা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর দেওর ও দেওরপোর দ্বন্দ্ব এখন দুনিয়া জানে। সেই দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছে বড়মার মুখাগ্নি নিয়েও।
গতমাসেই ঠাকুর নগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছিল। প্রথমে সভার জায়গা নিয়ে গণ্ডগোল। পরে তা মেটাতে ঠাকুরনগর যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। শান্তনুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করে সভাস্থলের জায়গার জট কাটাতে অন্যতম ভূমিকা নেন। ঠাকুরবাড়ির ভিতরে তৃণমূল-বিজেপি লড়াই তখনই সামনে চলে এসেছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে,
মোদীর সভায় জনপ্লাবন আরও চাপ বাড়িয়েছিল বাংলার শাসক দলের উপর। অনেকের মতে সেই কারণেই,
বড়মার মৃত্যুর পর বিজেপি যাতে তাঁর দেহ নিয়ে রাজনীতি না করতে পারে তাই নিজের মন্ত্রিসভার ছ’জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছিলেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা শেষ পর্যন্ত লেগেছিলেন।
তবে বড়মার পারলৌকিক কাজের পর কে হন স্থায়ী সঙ্ঘাধিপতি, এখন সে দিকে যেমন তাকিয়ে মতুয়া সমাজ,
তেমনই তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিকমহলও।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/6-3-2019-distnews-boromas-son-and-grandson-put-question-to-her-death/