দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেবেন, অথচ বিজেপি-কে খোঁচা দেবেন না! হালফিলে হয়েছে?
সোমবারও ব্যতিক্রম হল না। কালীপুজোর প্রাক্ সন্ধ্যায় দক্ষিণেশ্বরের মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের থেকেও বেশি ঝলসে উঠলেন বিজেপি বিরোধিতায়। বললেন, “গেরুয়া মানে আমরা কী জানি! ত্যাগ, তিতিক্ষা। এই যেমন আমাদের রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীরা। আর বিজেপি-র গেরুয়াদের দেখুন, খায় দায় ঘুরে বেড়ায়। গেরুয়া পরে, আবার এনজয়ও করে। এরা সাচ্চা গেরুয়া নাকি! সব ঝুটো!”
উনিশের ভোট আসছে। তার আগে বিজেপি যখন বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণ তীব্র করে তুলতে চাইছে, তখন ধারাবাহিক ভাবে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক তৃণমূলনেত্রী। সম্প্রতি বেলুড় মঠের এক অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরিই অভিযোগ করেন, তাঁর শিকাগো যাত্রা বানচাল করার নেপথ্যেও ছিল বিজেপি। তাঁরাই ষড়যন্ত্র করে তাঁর যাত্রাভঙ্গ করেন।
সোমবারও সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বাংলার পরিবেশ ধ্বংস করছে বিজেপি। বলেন, ওরা ধর্ম-ধর্ম করে। কিন্তু ধর্মের জন্য এক ইঞ্চিও কাজ করে না। কেবল ধর্মকে বিক্রি করে। এ কথা বলেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত সাত বছরে বাংলায় তাঁর জমানায় ধর্মস্থানগুলির কী ধরনের পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ দিন দক্ষিণেশ্বরে ভক্তদের সুবিধার জন্য স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে বলেন, শুধু দক্ষিণেশ্বর কেন, তারাপীঠ, তারকেশ্বর, কঙ্কালিতলা, নলহাটেশ্বরী গিয়ে দেখুন সেখানে কেমন উন্নয়ন হয়েছে। গঙ্গা সাগরে সমুদ্র থেকে আশ্রম পর্যন্ত রাস্তা হয়েছে, সেখানে লাইট চকচক করছে, রাস্তা ঝকঝক করছে।
তৃণমূলের রাজ্য স্তরের এক নেতার কথায়, গত সাত বছরে বাংলার ধর্মস্থান ও শ্মশানঘাটগুলোর সংস্কার যে হয়েছে তা বাস্তব। কিন্তু উনিশের ভোটের আগে বিজেপি গোটা রাজ্যে এই প্রচার চালাচ্ছে যে তৃণমূল কেবল সংখ্যালঘু তোষণ করছে। গেরুয়া শিবিরের সেই প্রচারকে খণ্ডন করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী সক্রিয়।