
শেষ আপডেট: 6 July 2018 10:24
ঘেঁষাঘেঁষি শুরু করেছিলেন রাজ্যসভার এই সাংসদ। সে সময় তাঁর ‘ইয়ার দোস্ত’ হয়ে উঠেছিলেন মুকুল রায়। সেখানে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে আশুতোষ কলেজ কাঁপানো এই ছাত্র নেতা ক্রমশ শাসক দলের কাছাকাছি আসার চেষ্টা শুরু করেন। বিজেপি বিরোধী লড়াইতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ হিসেবে প্রচার করেন একদা এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আইকনিক লিডার অফ দ্য ইউথ’ বলে সম্বোধন করেন ঋতব্রত। মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিলের ঢক্কানিনাদেও খামতি রাখেননি এক সময়ের বুদ্ধবাবুর স্নেহধন্য। তখনই আন্দাজ করা গিয়েছিল। ২১ জুলাই যে তাঁর তৃণমূলের মঞ্চে উদয় হতে পারে সে খবরও দ্য ওয়াল-এই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ষোল কলা পূর্ণ হলো।
এক্ষুণি হয়তো সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেবেন না রাজ্যসভার সাংসদ। তাহলে তাঁকে দলত্যাগের কারণে সাংবিধানিক জটিলতার মধ্যে পড়তে হতে পারে। তাই মুখ্যমন্ত্রীও সবটা বুঝে তাঁকে সরকারি কমিটির দায়িত্ব দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ।
সংসদের ট্যুরিজম সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য তরুণ এই সাংসদ। এ বার রাজ্য সরকারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির ভার তাঁর কাঁধে মমতা দিলেন যার রাজনৈতিক তাৎপর্য এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অপরিসীম।
কেন?
পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম সহ একাধিক জেলায় তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দলের কোর কমিটির বর্ধিত সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। মূলত ওই এলাকাগুলি জনজাতি অধ্যুষিত। নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে যে রিপোর্ট উঠে এসেছিল তাতে চমকে গিয়েছিলেন সকলে। তার প্রধান কারণ ছিল, জঙ্গলমহলের মানুষের উন্নয়নের টাকা আসলে গিয়েছে স্থানীয় শাসক নেতাদের পকেটে। আর এ থেকেই জনতার ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটে পঞ্চায়েতের ব্যালট বাক্সে। তখনই ঠিক হয়ে গিয়েছিল জঙ্গলমহলের উন্নয়নের জন্য সরকারের অসংখ্য প্রকল্প ঠিকঠাক রূপায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। আর সেই কমিটিরই চেয়ারম্যান করা হল ২০১২-র ৯ এপ্রিল দিল্লি বিমানবন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অমিত মিত্রদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে।