মহাজোটের মুখ সকলেই, বললেন মমতা, সম্মতি চন্দ্রবাবুর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমরাবতীকে কংগ্রেস নেতা অশোক গহলৌতের সঙ্গে বৈঠক করে চন্দ্রবাবু নায়ডু প্রায় এক তরফা ভাবেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ২২ নভেম্বর বিরোধী জোটের বৈঠক হবে দিল্লিতে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম পার্টির সভাপতি আরও বড
শেষ আপডেট: 19 November 2018 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমরাবতীকে কংগ্রেস নেতা অশোক গহলৌতের সঙ্গে বৈঠক করে চন্দ্রবাবু নায়ডু প্রায় এক তরফা ভাবেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ২২ নভেম্বর বিরোধী জোটের বৈঠক হবে দিল্লিতে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দেশম পার্টির সভাপতি আরও বড় গণ্ডগোল করেছিলেন এ কথা বলে যে, স্বাভাবিক নিয়মেই বিরোধী জোটের নেতৃত্বে থাকবে কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী।
কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস তা মানবে কেন? তা ছাড়া ২২ তারিখের বৈঠক যে ভাবে চন্দ্রবাবুর ডাকা বৈঠক বলে প্রচার চলছিল, তাতেও অখুশি ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব! কারণ, তাঁদের অবস্থান তো ‘আমি নই আমরা!’ জট পাকিয়েছিল তাতেই। সেই জট ছাড়াতে অবশেষে সোমবার বিকেলে নবান্নে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক করলেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। এবং তার পর নবান্নের চোদ্দ তলায় মমতা-চন্দ্রবাবুর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের ছবিটাই বুঝিয়ে দিল আপাতত জটিলতা কাটানো সম্ভব হয়েছে।
কী ভাবে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা গোটা শব্দে জানিয়ে দিলেন, “বিরোধী মহাজোটের কোনও একটি মুখ থাকবে না। মহাজোটের মুখ হবেন সবাই।” দ্বিতীয়ত, ২২ তারিখ কোনও বৈঠক হচ্ছে না দিল্লিতে। তবে ১১ ডিসেম্বর সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বসার আগে জাতীয় স্তরে মোদী বিরোধী শক্তিগুলি মিলে বৈঠক করবে। সেই বৈঠকের স্থান এবং কাল শীঘ্র জানিয়ে দেওয়া হবে। তেলুগু দেশম ও তৃণমূল সূত্রে খবর, সম্ভবত ওই বৈঠক হবে ১০ ডিসেম্বর।
কিছু দিন আগে পর্যন্ত কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন জোট তথা এনডিএ-র শরিক ছিলেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। কিন্তু অন্ধ্রের পুনর্গঠনের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ না পেয়ে তিনি বিজেপি সঙ্গ ছেড়েছেন। এ দিন নবান্নে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের রীতিমতো তুলোধনা করেন তিনি। বলেন, “সিবিআই, ইডি, সিএজি থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোটাই এখন সংকটে। এই পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থেকেই তিনি ও মমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সিনিয়র নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।”
এ দিন তাঁকে ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, বিরোধী জোটের বৈঠকে কারা কারা সামিল হবেন? মায়াবতী থাকবেন কিনা! জবাবে দু’জনেই বলেন, মোদী বিরোধী সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকেই বৈঠকে ডাকা হবে। তা ছাড়া মমতা জানান, ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে তিনি মহা সমাবেশের আয়োজন করেছেন তাতেও মোদী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি উপস্থিত থাকবেন। দু-এক জন ছাড়া বাকিরা ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন।
এর পরেও প্রশ্ন হল, গোড়াতেই কেন গণ্ডগোল করে ফেলেছিলেন চন্দ্রবাবু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশে নিজেই ঘোর সংকটে রয়েছেন চন্দ্রবাবু। অন্ধ্রপ্রদেশ ভাগ হওয়ার পর অন্ধ্রে চন্দ্রবাবু এমন কিছু করে দেখাতে পারেননি যা নিয়ে ফের ভোটে যাবেন তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াও বেশ তীব্র। এই পরিস্থিতিতে অন্ধ্রে চিরাচরিত ভাবে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বাবু। সেই জোটে তিনি বামেদেরও সামিল করতে চাইছেন। বাবু জানেন রাহুলের সঙ্গে তালমিল ভাল না হলে ভোটে সুফল পাওয়া যাবে না। এই অবস্থায় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দহরম মহরম বাড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কুমারস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। তার পরই বাবু ঘোষণা করে দেন, উনিশের ভোটে মোদী বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী শক্তিগুলির স্বাভাবিক নেতা হবেন রাহুলই।
যদিও এই প্রস্তাবে তৃণমূল সহ মোদী বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি যে রাজি হবে না সেটা রাহুলও ভাল করে বোঝেন। তাই রাহুলও ইদানীং বলছেন, ভোটের আগে নেতা মনোনীত করার কোনও দরকার নেই। সমষ্টিগত ভাবে মোদীর বিরুদ্ধে লড়াই করাই অগ্রাধিকার। ভোটের পর নেতা বাছা যাবে। মমতারও তাই মত। সোমবার কার্যত ভুল শুধরে তাতে সম্মতি দিলেন চন্দ্রবাবুও।