রফিকুল জামাদার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা পেগাসাস কমিশন শুরু করে দিল 'ফোনে আড়িপাতা' কাণ্ডর তদন্ত। ওই কমিশনে বৈধতা নিয়ে এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু নবান্ন বসে নেই। কমিশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
ফোনে আড়িপাতা সংক্রান্ত অভিযোগ, পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ইত্যাদি কীভাবে জানানো যাবে, সে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে।
এদিনই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার হলফনামা জমা দিয়েছে। সেই শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যেহেতু শীর্ষ আদালতে পেগাসাস মামলা বিচারাধীন তাই এখন যেন রাজ্য সরকার এই তদন্ত থেকে বিরত থাকে। বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেছেন, তিনি রাজ্য সরকারকে বলবেন।
পেগাসাস নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হওয়ার পরেই দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমবি লোকুর ও জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যকে নিয়ে তদন্ত কমিশন গড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিশনই প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু করে দিল। জানা গেছে, পেগাসাস নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে তা কমিশনকে জানানো যাবে সরাসরি।
সূত্রের খবর, এই তদন্ত কমিশনের দফতর তৈরি করা হয়েছে নিউটাউনে, এনকেডিএ (নিউটাউন কলকাতা ডেভোলপমেন্ট অথরিটি) বিল্ডিংয়ে। কমিশনের ঠিকানা নিউটাউনের ০০১, মেজর আর্টেরিয়াল রোড, কলকাতা-১৫৬।
শুধু অফিস নয়, একটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে কমিশনের তরফে। সেটি হল, www.jljbcoi.in। এই ওয়েবসাইটে এই তদন্ত কমিশনের বিষয়ে বিস্তারিত সমস্ত তথ্য দেওয়া রয়েছে। ওয়েবসাইটে গিয়ে কমিশনে অভিযোগ কীভাবে জানানো যাবে, সে নিয়ে সব তথ্যও দেওয়া রয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময় অন্তরে পেগাসাস ইস্যুতে সব তথ্যও এই ওয়েবসাইটে আপডেট করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে এই ওয়েবসাইটে এইটি ই-মেল আইডি দেওয়া হয়েছে, সেখানেও অভিযোগ জানানো যাবে।
গত ২৬ জুলাই পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কমিশনে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি এমবি লোকুর এবং প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য।
দিল্লি যাওয়ার আগে এই তদন্ত কমিশন তৈরি করে সেদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "আমরা ভেবেছিলাম কেন্দ্রীয় সরকার এটা নিয়ে তদন্ত করবে, কিন্তু কিছুই করেনি। তাই না জাগলে তাদের জাগাতে হয়। সেইজন্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই কমিশন তৈরি করল। এই দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কমিশন তদন্ত করবে ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে।"
সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, পেগাসাস ইস্যু তো গোটা দেশের ব্যাপার। সেখানে কোনও রাজ্য পৃথক ভাবে কমিশন তৈরি করতে পারে কিনা। শুধু তাই নয়, এই কমিশন তৈরির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে পর্যন্ত মামলা হয়। সেই মামলাতেও আজ, বুধবার সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে রাজ্য। জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। শুধু আড়ি পাতার উৎস খুঁজে বার করা নয়, কারা, কী উদ্দেশে, কীভাবে এই কাজ করছে বা করাচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করবে কমিশন।
এবার এই দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তদন্ত কমিশন প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিল। শুরু করল অভিযোগ সংগ্রহও। এখন দেখার বিষয়, এই কমিশনে কারা অভিযোগ করেন এবং অভিযোগ পাওয়ার পরে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তের জন্য কমিশনের তরফে কাউকে তলব করা হয় কিনা। তলব করলে কাদেরই বা তলব করে, সেটাও নজর রাখার বিষয়।