দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির জবাব ফেলে রাখেন না। দিনের দিনে উত্তর দেওয়ার তাঁর অভ্যাস।
বিষ্যুদবার কোচবিহারে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন নিয়ে ঝাঁঝালো সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত। বিকেলে বনগাঁর ঠাকুরনগরে শাহর পরবর্তী সভার আগেই তার জবাব দিলেন দিদি।
সরকারি উত্তীর্ণ সভাঘরে এদিন এক দলীয় অনুষ্ঠান ছিল। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “বাপরে কী ভাবে কথা বলছে! যেন শারীরিক ভাবে ধমকাতে এসেছেন। যেন দুরন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার। বলেছে, আমরা সবাই নাকি ভ্রষ্টাচারী। তা হলে তোমরা কী? দুষ্টাচারী? ফুচকা খাওয়ার ক্ষমতা নেই, ফুলকো লুচি খেতে এসেছে।”
কোচবিচারের সভা থেকে অমিত শাহ বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছেন এ বারও নির্বাচনে প্রভাব খাটাবেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি। তাঁর কথায়, “মমতাজি মনে করেন, জনগণের ভোটে জেতার দরকার নেই। ওঁর গুণ্ডা বাহিনী আছে। সেই গুণ্ডাদের দিয়ে ভোটে জিতে যাবেন। আরে আপনার গুণ্ডাষণ্ডাদের এ বার আমাদের বুথের নেতারা রুখে দেবেন।”
মমতা সম্ভবত তারই জবাব দিতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, "অত সোজা খেলা নয়। হয়ে যাক না খেলা! ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই হোক। সঙ্গে সিপিএম, কংগ্রেসকেও আপনাদের সঙ্গে দিয়ে দিলাম। দেখি কে জেতে? তবে আমি গোলরক্ষক থাকব। আর দেখব, কত খেলতে পারো তোমরা।"

এ সব চাপানউতোরের মোদ্দা বিষয় হল, বাংলায় এ বার অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হবে তো!
রাজ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না তা বাস্তব। বিশেষ করে গত পঞ্চায়েত ভোটে কোথাও জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কোথাও ব্যালট বাক্স ফেলা হয়েছে পুকুরে। কোথাও গণনার দিন ব্যালট বাক্স জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু জেলায় বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ।
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিজেপি নেতা কর্মীরা বারবার নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, ভোট যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়। তা যেন নিশ্চিত করে কমিশন। এমনকী মুকুল রায়ের কথায়, তা যদি কমিশন সুনিশ্চিত করতে না পারে তা হলে ভোট করানোরই দরকার নেই।
এদিন সম্ভবত, কোচবিহারের সভায় ঠারেঠোরে সেই আশ্বাসই দিতে চেয়েছেন অমিত শাহ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কোনও গুণ্ডা দিয়ে ভয় দেখিয়ে ভোটকে প্রভাবিত করা যাবে না।
বিজেপি মুখপাত্রদের “কথায়, একুশের ভোটে প্যাঁচে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা মনে পড়েছে! অথচ গত দশ বছর বাংলায় স্বৈরাচারী শাসন চলেছে। গুণ্ডারাজ ও পুলিশ রাজ চলেছে। ভোট চুরি হয়েছে। এ বার সত্যিই গণতন্ত্রের কষাঘাত পড়বে শাসক দলের উপর।”