
শেষ আপডেট: 29 September 2022 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: হাতির পিঠে চাঁচলের রাজার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন পোকমা এলাকার জমিদার ক্ষেত্রমোহন সরকার। কুশিদায় আসতেই হাতির পা মাটিতে বসে যায়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষেত্রমোহনের আর চাঁচলে যাওয়া হয়নি। কথিত সে রাতেই স্বপ্নাদেশ পান তিনি। তারপর কুশিদাতেই দেবীদুর্গার পুজো (Durga Pujo 2022) শুরু করেন ক্ষেত্রমোহনবাবু। প্রায় দুশো বছর ধরে তাঁর উত্তরপুরুষরা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই পুজো করে চলেছেন।
মালদহের (Maldah) চাঁচল বিধানসভার কুশিদায় বিখ্যাত সরকারবাড়ি। চল্লিশ শতক জমির উপর গড়ে উঠেছিল জমিদার ক্ষেত্রমোহনের বাড়ি ও দুর্গাদালান। জমিদারির জাঁকজমক এখন হয়তো নেই। কিন্তু ঐতিহ্যের অহংকার এই পুজোকে এখনও অন্য মাত্রা দেয়।
বোধনের আগে দেবীকে বেনারসি শাড়ি ও সোনার অলংকারে সাজিয়ে তোলেন বাড়ির মেয়ে বউরা। নিয়ম রীতি মেনে ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান করিয়ে নিয়ে এসে তাঁকে স্থাপন করা হয় দুর্গা দালানে। বেশিরভাগ বনেদি বাড়িতে অষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজার চল থাকলেও সরকার বাড়ির দুর্গাপুজোয় কুমারী পুজো হয় দশমী তিথিতে।
পাশের নদীতে ঘট বিসর্জনের পরেই নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে আনা হয়। যাকে পুজো করা হবে সেই কুমারীকে দেখানো হয় সেই মাছ। এটাও সরকার বাড়ির কুমারী পুজোর একটা অঙ্গ। দশমীতে দেবীর বিদায় বেলায় ধুনুচি নাচ এবং সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সরকার বাড়ির মহিলারা। গোধূলি লগ্নে দেবীর মৃন্ময়ী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় গ্রামের পাশের নদীতে।
চাকরি সূত্রে সরকার বাড়ির সদস্যরা গ্রামের বাইরে থাকলেও পুজোর সময় পরিবার নিয়ে সবাই চলে আসেন হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদার প্রত্যন্ত গ্রামে। এবার এই পুজোর ২২০ বছর।
মায়ের মধ্যে মেয়ের মুখ দেখেছিলেন বৈদ্যনাথ! চারশ বছর ধরে দুর্গাপুরে হয় ‘বুড়ি মা’র পুজো