দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার কল্যাণীর বিদ্যাসাগর মঞ্চে তৃণমূলের কর্মিসভা ছিল। সেই সভাস্থলে দৃশ্যত হুলস্থূল চলছিল, তখন সংবাদ সংগ্রহের কারণেই উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের জেলা সাংবাদিকরা। শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দলের কারণেই অশান্তি চলছে বলে রটে যাওয়ায় সাংবাদিকদের আগ্রহ ছিল বেশি। সেই পরিস্থিতিতে সভাস্থলে পৌঁছে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “কে এই দু পয়সার প্রেসকে এখানে ডাকে। সরাও প্রেসকে এখান থেকে।”
মহুয়া এ-ও বলেন, “কেন প্রেস ডাকো তোমরা দলের মিটিংয়ে। কর্মী বৈঠক হচ্ছে, সবার এখানে পেপারে মুখ দেখানোর, টিভিতে মুখ দেখানোর শখ।”
https://twitter.com/BJP4Bengal/status/1335578287020539907
তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্য নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও বক্তব্য রয়েছে। যেমন সম্প্রতি তিনি বলেছেন, কোনও একটি সংবাদমাধ্যমে কে সম্পাদক হবেন তাও নাকি দিল্লি থেকে ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও সংবাদমাধ্যম নিয়ে তাঁর বক্তব্য থাকলেও সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বরাবর প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখারই চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য বিমা, অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন ইত্যাদি চালু করেছেন তিনি। তা ছাড়া পুজোর সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাংবাদিকদের উপহারও দেন তিনি।
ওদিকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মহুয়া মৈত্র অত্যন্ত প্রগতিশীল রাজনীতিক বলেই পরিচিত। গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে লোকসভায় তাঁর ক্ষুরধার বক্তৃতার তারিফও হয়েছে অনেক। সেই মহুয়া 'দু’পয়সার প্রেস' বলায় অনেকেই বিস্মিত।
ওই সভার পরে সাংবাদিকরা মহুয়াকে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ফের প্রশ্ন করেন। তখন মহুয়া বলেন, “আমি তো আপনাদের রেকর্ড করতে বলিনি, আপনারা সেটা এখন রেকর্ড করেছেন.... ছেড়ে দাও ভাই ছেড়ে দাও।”
রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি মহুয়ার কথায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের মুখপাত্রদের কথায়, “তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর শব্দচয়ন আপত্তিকর। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের প্রতি তাঁর কোনও শ্রদ্ধা নেই এতেই বোঝা যাচ্ছে।” তাঁদের বক্তব্য, “এও বোঝা যাচ্ছে জনপ্রিয়তা খুইয়ে ফেলা দলের নেতারা ভোটে বিপর্যয়ের ভয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকেও ভয় দেখিয়ে চুপ করাতে চাইছে।”