
শেষ আপডেট: 17 October 2018 14:56
তাই আইপিএল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ললিত মোদীকে ভিসা পাইয়ে দেওয়ার পরেও বহালতবিয়তে বিদেশ মন্ত্রী পদে থেকে গিয়েছেন সুষমা স্বরাজ, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও স্বমহিমায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, মধ্যপ্রদেশে ব্যাপম কেলেঙ্কারির অভিযোগ টলাতে পারেনি শিবরাজ সিংহ চৌহানের গদি, একই ভাবে রেশনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও ছত্তীসগড়ে মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহের স্বাস্থ্যের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। মেজাজটা এমনই ছিল যে, আমরা যখন বলছি দুর্নীতি হয়নি, তো হয়নি। আর কোনও কথা হবে না!
মি টু পর্বে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর প্রসঙ্গেও গোড়ায় একই অবস্থানই নিয়েছিলেন মোদী-অমিত শাহ। আকবর যখন সংবাদপত্রের সম্পাদক, অভিযোগ সে সময়ে সহকর্মীদের যৌন হেনস্থা করেছিলেন তিনি। এতোদিন পরে সেই অভিযোগ যখন উঠছে, তখনও সুষমা স্বরাজ থেকে প্রধানমন্ত্রী সকলেই এ ব্যাপারে নীরবতা পালন করছিলেন। এবং বিদেশ সফর সেরে দেশে ফেরার পর তাঁর রাজনৈতিক প্রভুর মত নিয়ে আকবরও তাই হম্বিতম্বি করে বলেছিলেন ইস্তফার প্রশ্ন নেই। উল্টে অভিযোগকারী সাংবাদিক প্রিয়া রমানির বিরুদ্ধেই মানহানির মামলা ঠুকেছিলেন। সেই সঙ্গে আইনজীবীদের বাহিনী দেখিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে ভাবে একে একে কুড়ি জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন, তাতেই সম্ভবত এ বার সিঁদুরে মেঘ দেখেছেন মোদী-অমিত শাহ।
সামগ্রিক ভাবে দেশের অর্থনীতি প্রায় রসাতলে। একে বৃদ্ধির হার আশানুরূপ নয়, নতুন বিনিয়োগ নেই, কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। টাকার অবমূল্যায়ন হতে হতে কোথায় গিয়ে ঠেকবে এখনও ঠাহর করা যাচ্ছে না। উপরি পেট্রলের দাম যে ভাবে বাড়ছে তাতে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অচিরে তা একশো টাকা ছুঁয়ে ফেলবে। এবং তা হলে পেট্রল পাম্পের পুরনো মেশিনগুলিই বদলে ফেলতে হবে।
সম্ভবত, এই অবস্থায় আর নতুন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইলেন না মোদী-অমিত শাহ। উনিশের ভোটের আগেই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন আসছে। যাকে এক প্রকার সেমি ফাইনাল বলা যেতে পারে। সেখানে ভোটের প্রচারে, তিন তালাক প্রথা বন্ধ, উজ্জ্বলা যোজনার বাস্তবায়নকে মহিলাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত বলে যখন তুলে ধরছেন তাঁরা তখন আকবর কাণ্ড পিছন থেকে টেনে ধরছিল বইকি। পরিষ্কার বার্তা যাচ্ছিল, কুড়ি জনেরও বেশি প্রাক্তন সহকর্মী কারও বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করলেও, তাঁকে সম্মানের সঙ্গে মন্ত্রিসভায় রেখে দিতে পারেন নরেন্দ্র মোদী! হতে পারে সেই ঠ্যালায় পড়েই এ বার তাঁদের রাজনৈতিক ব্যাকরণেও ব্যতিক্রম ঘটালেন মোদী-শাহ।
তা ছাড়া আকবর ছিলেন বিদেশ মন্ত্রী। বিশ্বের কোনও উন্নত দেশে কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ হেন অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে ইস্তফা দিতে বলাই দস্তুর। ফলে এর পরেও আকবরকে সাউথ ব্লকে রেখে দিলে দেশের বাইরেও ভাল বার্তা যেত না।
অগত্যা মি টু ঢেউয়ের সামনে মাথা ঝোঁকাতেই হল মোদী-শাহকে।