
শেষ আপডেট: 6 June 2022 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চায়ের দোকানের রোজগার থেকে কোনও রকমে সংসার চালান বাবা। দরিদ্র পরিবারে প্রতিদিন দু'বেলা পেট ভরে খাওয়াই যেন বিলাসিতা। এমনই অবস্থায় সে বাড়ির কিশোর ছেলের মাধ্যমিক পরীক্ষা এসে গেছিল। আলাদা করে টিউশন নেওয়ারও সামর্থ নেই। কিন্তু মেধা আর পরিশ্রমের কাছে হার মানল দারিদ্র। ৬৭৫ নম্বর পেল মাথাভাঙার লালাবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়মরিচা দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র স্বপন বর্মন (Madhyamik Result)।
ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফক্করের হাট বাজারের ছোট এক বাড়িতে থাকে স্বপন। সেখানেই তার বাবা দেবেনের চায়ের দোকান। মা স্বপ্না গৃহবধূ। বাড়িতে আছে এক দিদিও। এসবের মাঝেই প্রতিদিন ঘণ্টা সাতেক সময় পড়াশোনার পিছনে দিত স্বপন। শেষমেশ তার প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯৭, ইংরাজিতে ৯২, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ৯৪, ইতিহাসে ৯৫ ও ভূগোলে ৯৮। যদিও সব মিলিয়ে আরও দশ নম্বর মতো বেশি পাবে বলে আশা করেছিল সে।
এর পরে সায়েন্স নিয়ে পড়ে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা স্বপনের। কিন্তু এক চিলতে টিনের বাড়িতে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বাবা বর্মন। তিনি বলেন, ছেলে ছোট থেকেই মেধাবী। একটু টিউশন পেলে হয়তো আরও ভাল ফল করত। কিন্তু ও যেভাবে পড়াশোনা করতে চায়, তার টাকার জোগাড় কীভাবে হবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না আমি।
স্বপনের এই ফলাফলে খুশি তার স্কুলের শিক্ষকরাও। অনেকেই বাড়িতে এসে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন পাশে থাকার। কিন্তু আর্থিক সমস্যার সমাধান আদৌ হবে কিনা, তা এখনও জানে না স্বপন।
স্বপনের স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবীপ্রসাদ চক্রবর্তী জানান, পঞ্চম শ্রেণি থেকেঅ ক্লাসে ভাল রেজাল্ট করত স্বপন। সে খুবই পরিশ্রম করতে পারে। স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করেছে সে। ভবিষ্যতে যাতে তার পড়াশোনা চালাতে সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক।
চুলে 'বচ্চন ছাঁট' নিয়ে আজও অভিনয়ের অপেক্ষায় বনগাঁর দীনবন্ধু! যদি ডাক আসে…