দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভাবের সংসারে ঠিকমতো খাওয়ার জোগান নেই, তো বিদ্যুতের বিল মেটানো তো দূর অস্ত। আর বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ কেটে দিয়ে যায় কোম্পানি। অগত্যা ক্লাবে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রঞ্জন। অবশেষে শাসকদলের স্থানীয় কর্মীদের সাহায্যে মিটল সমস্যা। বাড়িতে ফিরল বিদ্যুৎ।
ঘটনাটি শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঞ্চনবাড়ি এলাকার। সেখানেই মা ও দাদার সঙ্গে থাকে রঞ্জন মিশ্র। বাবা বছর দশেক আগে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। মা রঞ্জু মিশ্র একটি কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু সেই কারখানাটিও কয়েক মাস ধরে বন্ধ। তাই অভাবের সংসারে বিদ্যুতের বিল মেটাতে পারেননি তাঁরা। এদিকে বিদ্যুতের বকেয়া বিল গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার টাকায়। গত শুক্রবার বাড়িতে এসে বিদ্যুৎ কেটে দিয়ে যায় কোম্পানি। এদিকে মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা বাড়ির ছোটছেলে রঞ্জনের। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর থেকে আর পড়শোনা করা যাচ্ছিল না।
বাধ্য হয়ে রঞ্জন সন্ধ্যার পর গ্রামের কাঞ্চনবাড়ি স্পোর্টিং ক্লাবে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। ক্লাবে গিয়ে পড়াশোনা করায় তা অনেকের নজরে আসে। স্থানীয় যুব তৃণমূল কর্মীরা সব শুনে এগিয়ে আসেন। তাঁরা নিজেরাই চাঁদা তুলে ওই টাকা জোগাড় করেন। তারপর সোমবার ফুলবাড়ি অঞ্চল যুব তৃণমূলের তরফে গিয়ে মিটিয়ে দিয়ে আসা হয় বিল। ফলে সোমবারই বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে যান কর্মীরা।
এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য হীরেন রায় বলেন, “ওদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে রঞ্জন ক্লাবে গিয়ে পড়াশোনা করছিল। তারপরে যুব তৃণমূলের তরফে গিয়ে বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” শুধু বিদ্যুতের বিল মিটিয়ে দেওয়াই নয়, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য কিছু সরঞ্জামও কিনে দেওয়া হয়েছে রঞ্জনকে।
বিদ্যুৎ ফিরে আসায় আপাতত খুশি রঞ্জন। জোর কদমে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন সে। বড় হয়ে চাকরি পেয়ে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্নেই বিভোর এই কিশোর।