করোনা মহামারীর কারণে গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা (
Madhyamik 2022) হয়নি। বিশেষ মূল্যায়ণ পদ্ধতিতে নম্বর দিয়ে রেজাল্ট বের করেছিল মধ্য়শিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু এ বছর অফলাইনেই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। উদ্বেগের বিষয় হল পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার এবার অবিশ্বাস্যভাবে কম। ২০১৭ সালের মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তার পরের দু'বছরও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পরীক্ষার হলে হাজিরা অনেকটাই কমেছে। প্রতিটা জেলাতে পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সংখ্যা এতটাই বেশি যা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে শিক্ষকমহলে।
এ বছর মাধ্যমিকে (Madhyamik 2022) মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৮৮। যার মধ্য়ে পুরুষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৯ জন এবং মেয়ে পরীক্ষার্থী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ০০৯ জন। পর্ষদ জানিয়েছে, এ বছর মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
পরীক্ষার প্রথম দিনেই দেখা গেছে, জেলায় জেলায় পরীক্ষার্থী কেন্দ্রগুলোতে বহু পরীক্ষার্থী প্রথম দিনেই গড়হাজির। অনুপস্থিতির হার বেশি। পরিসখ্যাণটা যথেষ্টই উদ্বেগের। মালদার রামকিঙ্কর বালিকা বিদ্যাশ্রমে ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থীর (Madhyamik 2022) মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত, অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে ৩৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গড়হাজির ৯ জন। পাতুনিঘাটা হাইস্কুলে আবার ২৩৩ জনের মধ্যে ২৫ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী ( Madhyamik 2022) হাজিরই হননি পরীক্ষা কক্ষে। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে রাজা বিজয় সিংহ বিদ্যালয়ে ২৮১ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমদিনেই পরীক্ষা দিতে যাননি ২৯ জন। কল্যাণীতে সাতটি পরীক্ষা কেন্দ্র মিলিয়ে ২৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত।
জেলাভিত্তিক স্কুলগুলিকে দেখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার বেশি। যেমন আলিপুরদুয়ার গার্লস স্কুলে ১৩১ জনের মধ্যে প্রথমদিনেই ১৬ জন অনুপস্থিত, বিরষা বিদ্যাভবনেও গড়গাজির ১৬ জন, ফালাকাটা সুভাষ গার্লস স্কুলে ৩০৩ জন মোট পরীক্ষার মধ্যে ১০ জন পরীক্ষা দিতই যাননি। যোগেন্দ্রনগর হাইস্কুলে অনুপস্থিতির হার খুব বেশি, মোট পরীক্ষার্থীদের ৪২ জন প্রথমদিনেই অনুপস্থিত।
কেন এত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত? (Madhyamik 2022)
উপস্থিতির হার কেন কম সে নিয়ে পর্ষদ (Madhyamik 2022) এখনও অবধি কিছু জানায়নি। কারণটাও সেভাবে স্পষ্ট নয়। তবে গত কিছুদিন ধরেই এই নিয়ে আশঙ্কা করছিল শিক্ষামহল। য়ত সংখ্যক পরীক্ষার্থী ফর্ম ভরেছে তারা সবাই পরীক্ষা দিতে আসবে তো, এই চিন্তাই ছিল শিক্ষামহলের। গতবার পর্ষদ সভাপতি বলেছিলেন, জন্মহার কমে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। আবার এমনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল যে, গত তিন-চার বছর ধরে পাশের হার বাড়ায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। কিন্তু এ বছরের ছবিটা অন্য়রকম। করোনার কারণে গত বছর পরীক্ষা হয়নি। এবারই পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে পর্ষদ। হতেই পারে সংক্রমণের কারণে অনেক পরীক্ষার্থীই ( Madhyamik 2022) অফলাইনে পরীক্ষা দিতে যেতে ভয় পেয়েছেন। তাছাড়া, এই দীর্ঘসময় পরীক্ষা হবে কি হবে না সে নিয়ে টানাপড়েন চলায় প্রস্তুতিও ঠিকভাবে নেননি অনেক পড়ুয়াই। অনেকেই ভেবেছিলেন পরীক্ষা অনলাইনে হতে পারে। তাই পরীক্ষা হলে গিয়ে হাতে লিখে পরীক্ষা দিতে হলে যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার তা নেননি অনেক পড়ুয়াই। প্রস্তুতি কম থাকায় এবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার বেড়েছে এমনও হতে পারে।

তাছাড়া শিক্ষকমহলের একাংশের মত, করোনা মহামারী ও দীর্ঘসময় ধরে লকডাউন মানুষজনের জীবনযাত্রায় অনেক বদল এনেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন অনেকেই। স্কুল ও পড়াশোনার সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। স্কুলছুটের সংখ্যা বেড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানেরাও কাজের খোঁজে অন্য় রাজ্যে চলে গিয়েছেন। তাই অনুপস্থিতির হার এত বেড়েছে বলে অনুমান। জানা গেছে, পরীক্ষার ফর্ম ভরেও অ্যাডমিট কার্ড নিতে আসেননি আবার অ্যাডমিট নিয়েও পরীক্ষা কেন্দ্রে যাননি এমন পরীক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
আরও পড়ুন: Madhyamik Admit: প্রিন্সিপালের মুখে কালি, শিক্ষকদের মার! মাধ্যমিক শুরুর দিনেই অশান্তি আগরপাড়ার স্কুলে
পরীক্ষা প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় সে জন্য এবারে নিরাপত্তা অনেক জোরদার করা হয়েছে। গত বছর যে কেন্দ্রগুলি থেকে পরীক্ষার প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে গিয়েছিল সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদা, কোচবিহার, বীরভূম-সহ কয়েকটি জেলার মোট ৪৩টি ব্লকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে। পরীক্ষা হলে কোনও রকম গ্যাজেট, মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন না পরীক্ষার্থীরা।