
শেষ আপডেট: 6 September 2023 06:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ছত্রভঙ্গ স্তুরঙ্গমে' (Ma Durga Coming on horse)
তুরঙ্গ, অর্থাৎ ঘোড়া। আপাত নিরীহ শাকাহারী এই প্রাণীটিকে এমনিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু সেই প্রাণীই যখন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে, তখন ভয় না পেয়ে উপায় কী! তবে সেসব বাদ দিলে বাঙালি একটি বিশেষ সময়ে ঘোড়ার নাম শুনলে খুব একটা স্বস্তি বোধ করে না। আর সেই সময়টি হল দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। তার সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত এই তুরঙ্গ।

আসলে শাস্ত্রমতে দেবীর আগমন এবং বিদায় ঘটে ৪ রকমের বাহনে চড়ে। সেগুলি হল, গজ অর্থাৎ হাতি, অশ্ব অর্থাৎ ঘোড়া, দোলা এবং নৌকা। এই প্রতিটিতেই মা দুর্গার আগমন এবং বিদায়ের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তার কোনওটির প্রভাব শুভ, কোনওটি অশুভ। আর সেই অশুভদের দলেই পড়ে তুরঙ্গ।
দেবী দুর্গার (Kolkata Durga Puja) বাহন সিংহ, তাঁর ৪ সন্তানেরও প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা বাহন রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতি বছর সন্তান-সন্ততি নিয়ে যখন বাঙালির আদরের উমা যখন সেই সুদূর কৈলাস থেকে বাপের বাড়িতে আসেন, তখন হাতি, ঘোড়া, দোলা কিংবা নৌকাতেই আসেন তিনি। ফেরার সময়েও এগুলিই ভরসা। তবে সাধারণত দেবী যে বাহনে মর্ত্যে আসেন, ফেরেন অন্যটিতে। এই ৪ বাহনের প্রত্যেকটিতেই মায়ের আগমন এবং বিদায় রূপকার্থে বিশেষ তাৎপর্যবাহী। যেমন গজে আগমন অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। হাতিতে চড়ে শিবজায়া পিত্রালয়ে এলে শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী, পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়। মায়ের সঙ্গেই শান্তি নেমে আসে ধরাধামে।
তেমন আবার দোলায় আগমনকে অশুভ বলে ধরা হয়। কথিত আছে, দোলায় চেপে দুর্গার আগমন ঝড়-বৃষ্টি সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস। এমনকী, হতে পারে মহামারীও।
তবে নৌকায় আগমন কৃষি সমৃদ্ধির ইঙ্গিত। ফসলের ফলন ভাল হয়, সুজলা সুফলা হয়ে ওঠে মায়ের বাপের বাড়ির পাড়া। তবে মা নৌকায় এলে তা বন্যারও পূর্বাভাস। কিন্তু বন্যার জল সরে গেলেই উর্বর পলিমাটিতে চাষের কাজ ভাল হয়।

এর ফলে মানুষে মানুষে হানাহানি বাড়ে, দুর্ঘটনা ঘটে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন শাস্ত্রবিদরা। খরা এবং শস্যহানিও হতে পারে। সব মিলিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষত দেবীর আগমন এবং গমন দুইই যদি একই বাহনে হয়, তাহলে তা ঘোর সর্বনাশের ইঙ্গিতবাহী।
এই বছর মায়ের আসা এবং যাওয়া দুইই ঘোড়ার পিঠে চেপে। তাহলে কি তা মহাপ্রলয়ের সংকেত? সে ব্যাপারে খানিক আশার কথা শুনিয়েছেন শাস্ত্রজ্ঞরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ঘোড়ায় আসা বিপদের ইঙ্গিত বহন করলেও যেহেতু মায়ের স্বামীর ঘরে ফেরাও ঘোড়ার পিঠে চেপেই, তাই দুর্যোগ এলেও তা হয়তো সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েই মর্ত্যবাসীকে বাঁচিয়ে দিয়ে যাবেন উমা। তাই পরিস্থিতি সাময়িকভাবে খারাপ হলেও তা থেকে মুক্তিও মিলবে বলে আশাবাদী মানুষ।
অপরাজেয় ‘রাস্তার মাস্টার’ দীপনারায়ণ, এমন নায়ক থাকুক পাড়ায় পাড়ায়