
শেষ আপডেট: 19 January 2023 06:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: লটারির টিকিট (Lottery Prize) মিলে যাওয়ায় পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু লটারির টিকিটের ডিলার সেই টাকা দিতে গড়িমসি করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই টাকা না পেয়ে মানসিক অবসাদে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী (Suicide) হলেন যুবক! মঙ্গলবার রাতে আসানসোলের হিরাপুর থানার আলুঠিয়া গ্রামের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম উজ্জ্বল লায়েক, তাঁর বয়স ৪১। একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে তাঁর ঘর থেকে। তাতে তিনি লটারির টিকিট কাটা থেকে, পুরস্কারের টাকা না পাওয়া-- এসব কথা লিখেছেন। লিখেছেন টিকিট বিক্রেতার নামও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেশায় গাড়ি চালক উজ্জ্বল লায়েক হিরাপুর থানার আলুঠিয়া গ্রামে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকতেন। এই মাসের চার তারিখে তিনি পাশের চাঁপড়া গ্রামের বাসিন্দা লটারি বিক্রেতা বিপদ ঘোষের কাছ থেকে ভিন্ রাজ্যের লটারির টিকিট কাটেন।
অভিযোগ, নম্বর মেলানোর সময়ে তাঁকে টিকিট বিক্রেতা বলেন, তিনি পুরস্কার হিসেবে ১৪০০ টাকা পেয়েছেন। লটারি বিক্রেতা উজ্জ্বলকে তার মধ্যে ২০০ টাকা দিয়ে বলেন, বাকি টাকা পরে দেবেন। এর পরে উজ্জ্বল লোক মারফত জানতে পারেন যে, ১৪০০ টাকা নয়, পুরস্কার হিসেবে তিনি ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পেয়েছেন! সঙ্গে সঙ্গে উজ্জ্বল লটারি বিক্রেতা বিপদ ঘোষের কাছে গিয়ে সে কথা জানান। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও, পরে চাপাচাপিতে লটারি বিক্রেতা স্বীকার করেন, উজ্জ্বল ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পেয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা তিনি আজ দেব-কাল দেব করে ঘোরাতে থাকেন উজ্জ্বলকে। জানা গেছে, উজ্জ্বল বহুবার ওই লটারি বিক্রেতার কাছে গিয়েছিলেন টাকা চাইতে। কিন্তু টাকা দেননি বিপদ।
এর পর মঙ্গলবার রাতে বাড়ির লোকেরা উজ্জ্বলকে বাড়ির তিনতলায় কার্নিশে গলায় দড়ি দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে আসে হিরাপুর থানার পুলিশ। উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে ওই এলাকারই চাঁপড়া গ্রামের বাসিন্দা, লটারি ডিলার বিপদ ঘোষ এই আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা। তাঁকে না পেয়ে পুলিশ তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।
মৃত উজ্জ্বলের স্ত্রী কৃষ্ণা লায়েক ও দাদা হরিপদ লায়েক হিরাপুর থানার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁরা উজ্জ্বলের পরিবারকে এককালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে দাবি করেছেন। পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে যুবকের মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়।
হরিপদ লায়েক জানান, তিনি অন্য জায়গায় থাকেন। মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে ছুটে আসেন ভাইয়ের বাড়িতে। এর পরে সব জেনে তিনি হিরাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। লটারি বিক্রেতার কাছ থেকে ভাইয়ের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবকের কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে। গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, উজ্জ্বল মানসিক অবসাদেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত সেনা জওয়ান! নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ভয়াবহ কাণ্ড