
শেষ আপডেট: 25 June 2023 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ভাঙড়ে অশান্তির আবহে যখন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকেছিলেন, তখন তিনি যাননি। বলেছিলেন, কাজ আছে।
সেই নির্বাচন কমিশনার রবিবাসরীয় সন্ধেয় নিজে থেকেই রাজভবনে গেলেন। তার পর আনন্দ বোসের সঙ্গে চা-বিস্কুট সহযোগে এতক্ষণ ধরে কথা বললেন যে বাইরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সাংবাদিকরাও অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছিলেন। বলাবলি করছিলেন, বাবা! এত কী কথা হচ্ছে!
কোনও কিছু ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলে কৌতূহল তৈরি হওয়ারই কথা। আরও বড় কথা হল, রাজ্যপাল নাকি এদিন রাজীবকে ডাকেননি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিজেই সময় চেয়েছিলেন। তার পর এই এত লম্বা বৈঠক।
এহেন ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকে, কোনও একজন বা দুজনেরই ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নইলে সবুর করতে হয়, যদি সেই আমলা বা রাজনৈতিক স্তরে ঘুরে ফিরে চুঁইয়ে আসে। রবিবার রাত ৮ টা পর্যন্ত এই বৈঠক নিয়ে রাজীব বা রাজ্যপাল কিছু বলেননি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে যেন একটু চাপেই ফেলে দিয়েছিলেন। রাজীবকে ওই পদে নিয়োগ করেছেন তিনি। অথচ তাঁরই উপরে অনাস্থা জানিয়ে বসেছিলেন আনন্দ বোস। তাঁর জয়েনিং রিপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, শুধু তা নয়, সংবাদমাধ্যমে বাইট দিয়েও বলেছিলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারছেন না।
অতীতে জগদীপ ধনকড়ের মতোই এই রাজ্যপালের উপর বিজেপি নেতৃত্বে প্রভাব রয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। তৃণমূল কংগ্রেস সেটা খোলাখুলিই বলে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আমলারা কেউ সরাসরি রাজ্যপালকে চটাতে চাইবেন বলে মনে হয় না। নবান্নের সঙ্গে রাজভবনের রসায়নের কারণে কিছু পদক্ষেপ করতেই হয়। কিন্তু যাঁরা বিচক্ষণ তাঁরা হয়তো ব্যক্তিগত স্তরে সুসম্পর্ক রেখে চলেন।
এদিকে কমিশনের একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়ার ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত যা অগ্রগতি হয়েছে তা রাজ্যপালকে জানিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। আর রাজ্যপাল কমিশনারকে বলেছেন, ভোটে শান্তি বজায় রাখাই অগ্রাধিকার। কারও যেন প্রানহাণি না হয়। যে কোনও মূল্যে হিংসা বন্ধ করতে হবে এবং মানুষ যাতে তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
নওসাদ পেলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা, রবিবার বিকেলেই বিধায়কের বাড়ি পৌঁছলেন জওয়ানরা